ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ০৯:৫৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে হেফাজত সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার নন্দনপুরে এবং রাত সাড়ে ৭টার দিকে পৌর এলাকার টিএ রোড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নন্দনপুরের হারিয়া গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে জুর আলম (৩৫), বুধল গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে কাউসার (২০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাবিড় মিয়ার ছেলে বাদল মিয়া (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মৈন্দ গ্রামের জুরু আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২২) ও পৌর এলাকার টিএ রোডের আনিস মিয়ার ছেলে জুবায়ের (১৪)।

এদের মধ্যে জুর আলম, বাদল মিয়া ও সুজন মিয়া হাসপাতালে আনার পর আর কাউসার ও জুবায়ের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নুরুল আমিন, বাছির মিয়া, ছাদেক মিয়া ও শুক্কুর মিয়াসহ কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার বুধল থেকে হেফাজত সমর্থকদের একটি মিছিল নন্দনপুর বাজার এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় নন্দনপুর, কলামুড়ি, হাড়িয়া, সুহিলপুর এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

সন্ধ্যার ৭টার পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা টিএ রোডে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। মাদ্রাসা ছাত্ররা তাদের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় জুবায়েরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান।

তিনি আরও জানান, জেলা সদর হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ১৪ জন ভর্তি আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত