প্রণোদনার ক্ষুদ্রঋণ পেয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার গ্রাহক

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ১০:৫৬ পিএম

করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ক্ষুদ্রঋণ পেয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৪ গ্রাহক। এর মধ্যে নারী গ্রাহকের সংখ্যা ২ লাখ ৯ হাজার ৯৯৪ জন। অর্থাৎ এ খাতের ঋণের ৯২ দশমিক ৬৪ শতাংশই পেয়েছেন নারী গ্রাহকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ২২ মার্চ পর্যন্ত ৩ হাজার কোটি টাকার ওই তহবিল থেকে প্রায় ৯০৮ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ আলোচ্য তহবিলের ৩১ শতাংশ পুনঃঅর্থায়ন করতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে ৬৭৬ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৩২ কোটি টাকার ঋণের পুনঃঅর্থায়ন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া আরও ২২৫ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়।

তবে আলোচ্য সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলো মোট ১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে। ক্ষুদ্রঋণ দাতা ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই ঋণ বিতরণ করা হয়। বিতরণের হার ৪৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে এই ঋণের বিপরীতে ৬৬৫ কোটি টাকার পুনঃঅর্থয়ান সুবিধা এখনো হাতে পায়নি ব্যাংকগুলো।

পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ব্যাংকগুলো প্রথমে নিজস্ব উৎস থেকে ঋণ বিতরণ করে। পরবর্তীতে ওই ঋণের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পায় ব্যাংকগুলো।

আলোচ্য সুবিধার আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মোট ২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ ঋণ বিতরণের বিষয়ে ব্যাংকগুলো অনুমোদন পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন পেশাজীবীরা যাতে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন, সে লক্ষ্যে গত বছরের এপ্রিলে এ তহবিল গঠন করা হয়। প্রতিটি ব্যাংক নিজে থেকেই এই তহবিলের ঋণ বিতরণের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বার্ষিক ১ শতাংশ সুদে এই তহবিল নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংকগুলো এ তহবিল দেবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো সুদ নিতে পারবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। তবে প্রায় এক বছরে ৭টি ব্যাংক এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে এক টাকাও ঋণ বিতরণের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেয়নি। এই ব্যাংকগুলো হলো জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

আলোচ্য সময় পর্যন্ত এই তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে সাউথইস্ট ব্যাংক। ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ২৩২ কোটি টাকা। বিতরণের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক এশিয়া ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে ২০৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের জন্য নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, যেসব ব্যাংক এই ঋণ বিতরণে পিছিয়ে আছে তারা দ্রুত তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সচেষ্ট হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত