ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গতকাল শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে হেফাজত সমর্থক বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার নন্দনপুর ও রাত সাড়ে ৭টার দিকে পৌর এলাকার টিএ রোড এলাকায় আলাদা দুটি সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গতকাল বিকেলে জেলার সরাইলের অরুরাইল বাজারে মাদ্রাসাছাত্রদের বের করা বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা হয়। এতে ক্যাম্পে থাকা ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি জায়গায় গতকাল নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদকে
কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় মাদ্রাসাছাত্রদের হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সিলেট নগরীতে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াত-শিবিরসহ সমমনা দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ হয়। সেখান থেকে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। হবিগঞ্জে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গাজীপুরে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া গতকাল রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ডাকবাংলোয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জোনায়েদ সাকি-নুরুল হক নুরদের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে আজ রবিবার পূর্বঘোষিত হরতাল কর্মসূচি কঠোরভাবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষে নিহতরা হলেন নন্দনপুরের হারিয়া গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার ছেলে জুর আলম (৩৫), বুধল গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে কাউসার (২০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাবিড় মিয়ার ছেলে বাদল মিয়া (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মৈন্দ গ্রামের জুরু আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২২) ও পৌর এলাকার টিএ রোডের আনিস মিয়ার ছেলে জুবায়ের (১৪)। এর মধ্যে জুর আলম, বাদল ও সুজন হাসপাতালে আনার পর এবং কাউসার ও জুবায়ের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার, নুরুল আমিন, বাছির, ছাদেক, শুক্কুরসহ আরও কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার বুধল থেকে হেফাজত সমর্থকদের একটি মিছিল নন্দনপুর বাজার এলাকায় এলে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নন্দনপুর, কলামুড়ি, হাড়িয়া ও সুহিলপুর এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের কারণে কুমিল্লা-সিলেট ও ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। রাত ৯টা পর্যন্ত সব যান চলাচল বন্ধ থাকায় পুরো মহাসড়কে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। ৪টি বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে পুরো এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে জুর আলম, কাউসার, বাদল, সুজন, শুক্কুরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা টিএ রোডে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। মাদ্রাসাছাত্ররা তাদের দিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় জুবায়েরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মানুন জানান, সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে তার হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যায়। হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও ১৪ জন ভর্তি আছেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ক্যাম্পে হামলা : গতকাল বিকেলে জেলার সরাইলে মাদ্রাসাছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল থেকে অরুরাইল বাজারে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়। এতে ক্যাম্পে থাকা সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন ও এএসআই জাহাঙ্গীরসহ ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশ হামলাকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দুই জায়গায় গতকাল মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সাংবাদিক, ছাত্রলীগকর্মী ও এলাকাবাসীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবারের তা-বের ঘটনায় ৩ মামলা, আসামি সাড়ে ৬ হাজার : গত শুক্রবার পুরো বিকেল ও সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্রদের তা-বের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাগুলো করে। মামলা তিনটিতে সাড়ে ছয় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তা-বের ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
কোনো ট্রেন থামবে না ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্ররা রেলস্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ট্রেন চলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবি ও পুলিশের টহল চলছে। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। তবে রেলস্টেশনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় স্টেশন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে গতকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সব ধরনের ট্রেনের যাত্রাবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার শোয়েব আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিলেটে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, আটক ১৪ : সিলেটে গতকাল বিক্ষোভ করেছে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াত-শিবিরসহ সমমনা দলগুলো। দুপুরে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ধাওয়া করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করে। এছাড়া বিকেলে নগরীর বন্দরবাজার ও কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতের বিপুলসংখ্যক কর্মী এতে অংশ নেন। এ সময় পুলিশ ওই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
হবিগঞ্জে ছাত্রদল-পুলিশ সংঘর্ষ : হবিগঞ্জে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুলিশসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জিকে গউছের ছেলে, ছোট ভাই, ভাতিজাসহ কয়েকজনকে আটক করছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে ১৩২ রাউন্ড শটগানের গুলি ২১ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
গাজীপুরে যুবদল-ছাত্রদল ও পুলিশ সংঘর্ষ : গাজীপুরে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। দুপুরে শহরের রাজবাড়ী সড়কে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান রাজু। ঘটনাস্থল থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
ভাঙ্গায় থানায় হামলা : ফরিদপুরে ভাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্ররা থানায় হামলা চালিয়েছে। এতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে থানার ফটক ও পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল। পরে পুলিশ শটগানের ৪৫টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে ভাঙ্গা থানা লাগোয়া জামিয়া ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম ঈদগাঁ মাদ্রাসা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভাঙ্গা বাজার ঘুরে বিশ্বরোড এলাকায় যায়। পরে বিশ্বরোড থেকে ফিরে মিছিলটি ভাঙ্গা থানার কাছে ঈদগাঁ মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হয়। মিছিলকারীরা ওই মাঠ থেকে লাঠি ও কাঠের বাটাম সংগ্রহ করে দুপুর সোয়া ২টার দিকে ভাঙ্গা থানায় হামলা করে।
হাটহাজারী ডাকবাংলোয় আগুন : হাটহাজারী ডাকবাংলোতে গতকাল রাতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় ডাকবাংলোর নতুন ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এছাড়া তিনটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে পুলিশ ও হেফাজত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার জের ধরে হাটহাজারীতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে গতকালও বন্ধ ছিল যান চলাচল। এর ফলে ওই রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রেস ক্লাবে সাকি-নুরদের সমাবেশ থেকে আটক ৬ : রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জোনায়েদ সাকি-নুরুল হক নুরদের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ৬ জনকে আটক করেছে রমনা থানা পুলিশ। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভাসানী অনুসারী পরিষদের ব্যানারে মোদিবিরোধীদের বিক্ষোভে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের হামলার প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন তারা।
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে পুলিশ সমাবেশস্থল ঘিরে ফেলে। এ সময় বক্তব্য রাখা বন্ধ করেন নুর। সমাবেশ থেকে সিনিয়র নেতারা পুলিশকে আশ্বস্ত করেন কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটবে না। এরপর সমাবেশ ফের শুরু হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধান অতিথি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করেন। এসময় পুলিশ নুরসহ জাফরুল্লাহকে প্রেস ক্লাব চত্বরে ঢুকিয়ে দিলে নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করে।
বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা : গত শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতেই পল্টন থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করে। তবে এ মামলায় গতকাল পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানায় পুলিশ।
হরতালে বাধা দিলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা : গতকাল হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। সমাবেশ থেকে আজ রবিবার পূর্বঘোষিত হরতাল কর্মসূচি কঠোরভাবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি। হরতালে বাধা দিলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এছাড়া ৬ দফা দাবি জানিয়ে হরতালের সমর্থনে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
রাজধানীতে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মীদের বিক্ষোভ : গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
