দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম পটিয়া-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। ব্যস্ততম এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে শতশত যাত্রী-পণ্যবাহী হালকা ও ভারী যান। কিন্তু কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে যাওয়া লবণবোঝাই ট্রাকগুলো থেকে নিঃসৃত পানিতে দিন দিন পিচ্ছিল হয়ে উঠছে ওই সড়ক। নিয়ম থাকলেও লবণবাহী ট্রাকগুলোতে জিইওট্যাক্স (মোটা ত্রিপল) ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে সড়কটি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এর দরুন প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানিও।
জানা যায়, কক্সবাজার জেলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, মহেশখালী, উখিয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লবণের চাষ হয়। নৌ ও স্থলপথে এসব লবণ ঢাকা, নোয়াখালী, ঝালকাঠি, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা লবণ পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়। নৌপথে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় মূলত সড়কপথে ট্রাকে করেই এসব স্থানে লবণ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ লবণই চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও পটিয়ার ইন্দ্রপুল এলাকায় পরিশোধনাগারে আনা হয়। কারণ ইন্দ্রপুল লবণশিল্প এলাকায় আনতে খরচ কম হওয়ায় বেশিরভাগ লবণ পটিয়ায় আনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়মানুযায়ী লবণবাহী ট্রাকে জিইওট্যাক্স ব্যবহার না করায় পুরো রাস্তায় পানি ঝরে পড়ে। এছাড়া মহাসড়ক হয়ে বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের সময় কাঁচা মাটির সড়কও পড়ে। রাতে কুয়াশার সংস্পর্শে লবণনিঃসৃত সেই পানি ও কাঁচা মাটি রাস্তায় আঠালো আস্তরণ সৃষ্টি করে। ফলে চলমান কোনো গাড়ি ব্রেক কষলেই আঠালো আস্তরণের স্পর্শে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানায়, গত তিন মাসে পটিয়া-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ছোট-বড় প্রায় ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জনের প্রাণহানি ছাড়াও আহত হয়েছে অনেক। এছাড়া গত বছরে এ মহাসড়কের দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ২২ মার্চ চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী পিকআপ ও লবণবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়। তাদের দাবি, মহাসড়কটিতে দিন দিন গাড়ি চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সড়ক আর বড় হয়নি। তার ওপর গাড়িচালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা তো আছেই। কে কার আগে যাবে। ফলে পিচ্ছিল সড়কে ওভারটেক করতে গিয়ে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে। নতুবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লবণ পরিবহনে ট্রাকে পলিথিন ব্যবহারে বারবার অবহিত করা হলেও লবণ ব্যবসায়ীরা সেটি কর্ণপাত করছেন না। আবার কোনো কোনো সরবরাহকারী পলিথিন ব্যবহার করলেও ইন্দ্রপুল এলাকায় সড়কের ওপর লবণ আনলোড করার সময় ট্রাকের লবণাক্ত পানিতে মহাসড়ক সয়লাব হয়ে যায়।
ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, লবণবাহী ট্রাকের ওপরে-নিচে মোটা ত্রিপল ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ সেটি অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শিগগিরই লবণ ব্যবসায়ী-সরবরাহকারীদের সঙ্গে বসব। তবে যারা সড়কের পাশে লবণ আনলোড করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
