শান্তিচুক্তিতে পাকিস্তানের ইউটার্ন

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৬ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় চিরশত্রু দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছিল। উভয়পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনাও শুরু হয়েছিল। আলোচনার ফলশ্রুতিতে ভারত থেকে কিছু পণ্য আমদানির সিদ্ধান্তও নিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু ভারত থেকে আবারও চিনি ও তুলা আমদানির ঘোষণা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা প্রত্যাহার করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এমন সিদ্ধান্তে উভয় দেশের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া ফের ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।

দুই দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মার্চ পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আবারও আমদানি শুরুর ঘোষণা দিলেও বেঁকে বসে মন্ত্রিসভা। এক দিনের ব্যবধানে আমদানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। গত বুধবার পাকিস্তানি অর্থমন্ত্রী হাম্মাদ আজহার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে চিনি ও তুলা আমদানি ফের শুরু করবে তার দেশ। তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটি (ইসিসি) বেসরকারিভাবে ভারত থেকে পাঁচ লাখ টন চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

এ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই বেঁকে বসে দেশটির মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ জানান, ভারত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে না দিলে তাদের পক্ষে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। জানা গেছে, বৈঠকে শেখ রশিদ, মাহমুদ কোরেশি, মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারিসহ পাকিস্তানের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ভারত থেকে তুলা-চিনি আমদানির বিরোধিতা করায় বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় দেশের শীর্ষপর্যায়ে আলোচনার পরও পাকিস্তানের বেঁকে বসা ইসলামাবাদের নেতৃত্ব পর্যায়ে মতভেদ থাকাকে প্রমাণ করছে। ইমরান খান শাসিত সরকারের মধ্যে এমন মতভেদ থাকলে ভারতের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এগোনো সম্ভব হবে না। যদিও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের জেরে ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে চিরবৈরী ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কে আরও অবনতি হয়। সে সময় ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বরখাস্ত করে পাকিস্তান। ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, রেল ও বিমান চলাচলও বন্ধ করে দেয় তারা। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত বছর মে মাসে ভারত থেকে ওষুধ ও কাঁচামাল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইমরান খানের সরকার। তখন থেকেই মনে করা হচ্ছিল, উভয় দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরিতে আলোচনার দুয়ার উন্মোচিত হতে পারে।

পাকিস্তান অ্যাপারেল ফোরামের চেয়ারম্যান জাভেদ বিলওয়ানির মতে, ভারত থেকে তুলা আমদানির অনুমতি ছিল পুরোপুরি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত এবং এই মুহূর্তে তাদের জন্য এটাই প্রয়োজন। সেই অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। ভারত থেকে তুলা আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিলের পরপরই এর দাম বেড়ে গেছে জানিয়ে বিলওয়ানি বলেন, সরকার যদি ভারত থেকে তুলা আমদানির অনুমতি না দেয় তাহলে যেন এর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। এ সংকটের সমাধান না হলে পাকিস্তানের টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি ব্যাপক হারে কমে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত