সাম্প্রদায়িকতা শব্দটি ‘পজিটিভ’ অর্থে ব্যবহার হতো: নুর

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৬ পিএম

সাম্প্রদায়িকতা শব্দটি পজিটিভ অর্থে ব্যবহার হতো বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার ডয়েচে ভেলের একটি টক শোতে এমন দাবি করেন নুর। এর পক্ষে নিজের বক্তব্যও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িকতা শব্দটি ‘পজিটিভ’ অর্থে ব্যবহার হয়।

টক শোতে নুরুল হক নুর অপর আলোচককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কি সাম্প্রদায়িকতা কথার সঠিক অর্থটা জানেন কি না এবং বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা কখন কীভাবে আসল, এই প্রশ্নটা একটু জানতে চাই আপনার কাছে’।

এরপর নুর বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতা শব্দটা কিন্তু প্রথম দিকে পজিটিভ অর্থে ব্যবহার করা হতো, বিশেষ করে ১৮২৭ সালে কলকাতার ‘দর্পণ’ পত্রিকায় বলা হয়েছিল, একজন মানুষকে নিয়ে যে তিনি সাম্প্রদায়িক, পরোপকারী, মন্যুষত্ব, সহনশীল ব্যক্তি ছিলেন। এবং আপনার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে তার একটা লেখায় বলেছিলেন যে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সৌন্দর্য চর্চা ও সৌন্দর্য পূজা বলিয়া একটা সাম্প্রদায়িক ধুয়া আছে, দ্যাট মিনস...।’

নুর বলেন, ‘এখনকার সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িকতা বা সাম্প্রদায়িক বিষয়টা একটা পজিটিভ অর্থে ব্যবহার করা হয়’।

নুর বলেন, ‘১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল বিধানসভার একটা বিলের ওপরে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ তখন বলছিল, যে ওটা তো একটা সাম্প্রদায়িক বিল, কারণ হচ্ছে যে দেশভাগের আগে ওই যে কৃষক-প্রজা বিল নিয়ে যেহেতু মুসলমানরা আন্দোলন করছিল, হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে সেই কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ বলছিল এটা সাম্প্রদয়িক বিল’।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘সৌন্দর্য ও সাহিত্য’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘কিন্তু সৌন্দর্যকে অনেক সময় আমরা নিখিল-সত্য হইতে পৃথক করিয়া দেখি এবং তাহাকে লইয়া দল বাঁধিয়া বেড়াই, ইহা দেখিতে পাওয়া যায়। য়ুরোপে সৌন্দর্যচর্চা সৌন্দর্যপূজা বলিয়া একটা সাম্প্রদায়িক ধুয়া আছে। সৌন্দর্যের বিশেষ ভাবের অনুশীলনটা যেন একটা বিশেষ বাহাদুরির কাজ, এইরূপ ভঙ্গিতে একদল লোক তাহার জয়ধ্বজা উড়াইয়া বেড়ায়। স্বয়ং ঈশ্বরকেও এইরূপ নিজের বিশেষদলভুক্ত করিয়া, বড়াই করিয়া এবং অন্য দলের সঙ্গে লড়াই করিয়া বেড়াইতে মানুষকে দেখা গিয়াছে’।

কৃষক-প্রজা বিলের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত