পূর্ব শত্রুতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে মাদারীপুরের রাজৈরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় প্রায় ১০ টি বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদর সংলগ্ন বদরপাশা ইউনিয়নের কেজেএস মডেল পাইলট ইনস্টিটিউশনের সামনের ব্রিজের পাশে এ ঘটনাটি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে রাজৈরে আ.লীগের দু-গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সম্প্রতি প্রতিটি জাতীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেই মাদারীপুর-২ আসনের এমপি শাজাহান খান সমর্থিত গ্রুপ এবং জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছিল। এসব ঘটনার রেশ ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারও দু-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
বদরপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবিনা আক্তার মিরুর ছেলে জয়কে মজুমদারকান্দি গ্রামের লোকজন আটকে রেখেছে এমন গুজবের রেশ ধরে শাজাহান খান এমপি সমর্থিত সিরাজ আকনের সাথে জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাচ্চু আকনের কথা-কাটাকাটি হয়। এই জের ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ ঘটনায় রফিক মাতুব্বর, ফরহাদ মাতুব্বর, রোমান মাতুব্বর, শহিদুল ইসলাম, টিটু মাতুব্বর, ওবায়দুর মাতুব্বর, মিজান আকন, কাবিল আকন, বেলাল আকন, আলমগীর আকন আহত হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের ১০ টি বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে রাজৈর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে জেলা আ.লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা জানান, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের কারণে বদরপাশায় এসব হচ্ছে। এটা আওয়ামী লীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষ বলে আমি মনে করি না। আওয়ামী লীগ বিরোধীরা একত্রিত হয়ে কারও বিশেষ ইন্ধনে এসব করছে।
মাদারীপুর-২ আসনের এমপির রাজৈর উপজেলার স্থানীয় প্রতিনিধি আ.ফ.ম ফুয়াদ জানান, পেশি শক্তির রাজনীতি যারা করে তাদের আমরা ঘৃণা করি। এছাড়াও এ সংঘর্ষের সাথে যারা জড়িত তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাই।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এলাকার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
