মিয়ানমারে সামরিক শাসনবিরোধী প্রায় দুই মাসের বিক্ষোভে মৃত্যুসংখ্যা সাড়ে ৫০০ ছাড়িয়েছে। গত শনিবারও দেশটিতে ৮ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে। তবে এরপরও দমে যায়নি গণতন্ত্রপন্থিরা। প্রতিদিনই থাকছে তাদের নানা কর্মসূচি। সাধারণ এই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিতে শুরু করেছে দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন। গত শনিবার এমন ১০টি শীর্ষ বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন চলমান সেনাবিরোধী বিক্ষোভে তাদের সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল রবিবার ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার মিয়ানমারের ১০টি বিদ্রোহী সংগঠন ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি চালানোর নিন্দা করে।
বিদ্রোহী রেস্টোরেশন কাউন্সিল অব শান স্টেট’র নেতা জেনারেল ইয়াউদ সের্ক বলেন, ‘এ ঘটনায় সামরিক বাহিনীর নেতাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’
গত সপ্তাহে জাতিগত বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সামরিক সরকার এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে নিরাপত্তারক্ষীদের সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপরও কোনো সহিংসতা চালানো যাবে না। আমি বলতে চাই, এই ১০ সংগঠন দৃঢ়ভাবে জনগণের সঙ্গে রয়েছে, যারা দেশে স্বৈরশাসনের অবসান চান।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে দীর্ঘদিন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতিগত বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর সংঘাত চলছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর বিস্তৃত এলাকা এসব বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদ্রোহী সংগঠন তাদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করায় মিয়ানমারে সেনাবিরোধী বিক্ষোভ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে সেখানে অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন করে আসছেন গণতন্ত্রকামীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে হত্যা, আটক ও নির্যাতনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫৫০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
অধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৫৫৭ হয়েছে। গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তির সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি।
মিয়ানমারে স্বৈরশাসনের অবসান ও গণতন্ত্র-মানবাধিকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এএপিপি। এদিকে সেনাশাসনবিরোধীরা তাদের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গতকাল ইস্টার সানডেতে ‘ইস্টার এগ’ তৈরি করেছেন। এই ‘ইস্টার ডিম’ সেনাশাসনের প্রতি অবজ্ঞা-অবহেলা প্রদর্শনের প্রতীক।
শনিবার রাতে প্রতিবাদকারীরা মোমবাতি প্রজ্বালনের পর অনলাইনে ইস্টার ডিমের ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির সঙ্গে তারা জুড়ে দিয়েছেন সেনাশাসনবিরোধী নানা স্লোাগান।
মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি ধর্মঘট-অসহযোগের মতো আন্দোলন চলছে। ব্যাংক-বীমা, হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিকরা কাজ বাদ দিয়ে নেমেছেন রাস্তায়। চ্যানেল নিউজ এশিয়া নামে একটি সংবাদমাধ্যম এইসব অসহযোগ আন্দোলনকে নীরব বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
