তিগ্রেতে স্বাধীনতার ডাক

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৮ পিএম

ইথিওপিয়ার তিগ্রে রাজ্যের স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নোবেলজয়ী আবি আহমেদের মতানৈক্যের জেরে ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আবির নির্দেশে দেশটির সেনাবাহিনী বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তিগ্রেতে। প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সেনাবাহিনীও আবির নির্দেশে তিগ্রেতে অভিযান চালায়। উভয় দেশের সেনাবাহিনী একটি জনপদের ওপর অত্যাচার বলতে যা বোঝায় তার সীমা অতিক্রম করেছে, যা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে জানা যায়।

তিগ্রের ১৯ বছর বয়সী এক মেয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরিত্রিয়ার চার সেনা সদস্য আমাকে ধর্ষণ করে। তারা সবাই হাসছিল। টানা পাঁচ দিন তারা আমাকে ধর্ষণ করে। আমাকে তারা মানুষই মনে করেনি। প্রতিবার আমি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে।’ তিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) হয়ে খবর আদান-প্রদানের অভিযোগে ওই মেয়েটির ওপর অত্যাচার চালানো হয়।

শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ নিজ দেশের জনগণকে দমাতে যেভাবে সেনাশক্তি ব্যবহার করছেন, তাতে তিগ্রে অঞ্চলের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আসছে। অঞ্চলটির এক ব্যক্তির ভাষ্যে, ‘আমি ইথিওপিয়ার নয়, তিগ্রের জনগণ। আমরা যদি ইথিওপিয়ার কেউ হতাম তাহলে সরকার কি এভাবে সৈনিকদের দিয়ে আমাদের ধর্ষণ করাতে পারত?’ জাতিসংঘ সম্প্রতি তিগ্রের ধর্ষণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ধর্ষণের অন্তত ৫১৬টি ঘটনা প্রকাশ করা হয়। তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনা প্রাপ্ত সংবাদের তুলনায় আরও অনেক বেশি।

টিপিএলএফ নেতা দেব্রেসিয়ন গেব্রেমিশেল তিগ্রের সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের জন্য আবি আহমদকে দায়ী করেছেন। তিনি সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় তিগ্রের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। ফলে তিগ্রেসহ গোটা ইথিওপিয়ায় গেরিলা যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি আবি তিগ্রে থেকে ইরিত্রিয়ার সেনাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিগ্রে থেকে সরে গেলেও তারা তাদের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারের আওতায় আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত না। জাতিসংঘ এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে, ইরিত্রিয়ার সেনাবাহিনী জানায় যে তারা তিগ্রেতে কোনো নৃশংসতা চালায়নি।

গত মাসেই আবি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘টিপিএলএফ প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যাচ্ছে শুরু থেকেই। আমাদের নারীদের ধর্ষণ, লুটপাটের কোনো ঘটনা যদি জানা যায় তাহলে এর জন্য দায়ী সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মজার বিষয় হলো, আবির এমন বক্তব্যের কয়েক দিন পরেই সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ইথিওপিয়ার সেনাদের তিগ্রের একদল মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে পাহাড় থেকে ফেলে দিতে দেখা যায়। ওই ভিডিও প্রকাশের পর থেকে আবি আহমেদ এখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত