হেফাজতের নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ‘হেফাজতে ইসলামের’ বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল্লাহ (৫৪) মারা গেছেন।
ঘটনার তিন দিন পর বুধবার রাত সাড়ে ১২টার সময় চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুহিবুল্লাহ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তানসহ অনেক গুনীজন রেখে যান।
এদিকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয়আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
গত শনিবার (৩ এপ্রিল) হেফাজত ইসলামের নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ এর প্রতিবাদে ওই রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হেফাজতে ইসলাম, বিএনপি ও জামাতের নেতাকর্মীরা।
মিছিল থেকে হামলা চালালে আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল্লাহসহ গুরুতর আহত হন যুবলীগ নেতা আব্দুল জব্বার ও দিলদার আজমলিটন।
তাদের উদ্ধার করে উপজেলার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানে মহিবুল্লাহ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মাহবুব মিল্কি (তদন্ত) বলেন, হামলার ঘটনায় পুলিশ ও কোদালা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে দুইটি পৃথক মামলা করেছেন।
মামলা দুইটিতে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের ৬৪জন নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০জনসহ মোট ২১৪জনকে আসামি করা হয়েছে। দুইটি মামলাতেই উপজেলা বিএনপি চারজন নেতাকে আটক করা হয়েছে।
তারা হলেন- প্রধান আসামি ইউনুছ মনি, এরপর ফোরকান (৩৫), ইয়াহিয়া (২৮) ও বাবর (৩৭)। এ মামলা হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে।
এদিকে এলাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি বদিউল আলম মাষ্টার জানান, হেফাজতে তাণ্ডবের জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুল্লাহ নিহত হওয়ার সংবাদে রাঙ্গুনিয়া থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
