করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি ও উপসর্গ নিয়ে পাবনায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কোনোভাবেই সচেতন হচ্ছেন না পাবনাবাসী। শপিং মল, চায়ের দোকানে অযথা ভিড় বাড়ানোর পাশাপাশি গোপনে খোলা রয়েছে কোচিং সেন্টারগুলোও। এসব কোচিং সেন্টারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এ ধরনের অবহেলায় করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ মাত্রায় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল রবিবার সকালে পাবনা জেলা স্কুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খোলা রয়েছে ওয়াজেদ গণিত কোচিং, শরিফ ইংলিশ টিচিং হোম, ইছামতী কোচিং সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টার।
স্থানীয়রা জানালেন, প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এসব কোচিংয়ে পড়াচ্ছেন কোচিং সেন্টারের মালিকরা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যাচ করে পড়ানো হচ্ছে। প্রতি বেঞ্চে সাত-আটজন করে ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি তো দূরের কথা, অনেকে পড়েনি মাস্কও।
গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে কোচিং সেন্টার খোলা রাখার কথা অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কথার গরমিলে তা স্বীকার করেন কোচিং সেন্টার মালিকরা। এ সময় ‘অভিভাবকদের চাপে কোচিং খোলা রেখেছেন,’ ‘লকডাউন শিথিল’ এমন নানা ধরনের উত্তর দেন তারা।
ওয়াজেদ কোচিং সেন্টারের পরিচালক ওয়াজেদ বলেন, লকডাউন শিথিল থাকায় বাচ্চাদের পড়াচ্ছিলাম। কঠোর লকডাউন হলে পড়াব না। বাচ্চারা সংক্রমিত হলে তার দায় নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ভুল হয়েছে।
শরিফ ইংলিশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক শরিফ বলেন, আমাদের বিকল্প আয়ের উৎস নেই। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বাধ্য হয়েই বাচ্চাদের পড়াচ্ছিলাম।
এদিকে শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন বলেই বাচ্চাদের কোচিংয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক। তিনি বলেন, কিছু অসচেতন অভিভাবককে ডেকে তাদের বাচ্চাদের নিয়ে পড়ানো শুরু করেছেন কোচিংওয়ালারা। বাচ্চা পিছিয়ে পড়বে ভেবে পড়াতে এনেছি। বিষয়টি ঠিক হয়নি।
পাবনার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবু জাফর বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ের করোনায় কিশোর-তরুণরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ধরা পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
