‘লকডাউন’ আতঙ্ক

বাজারে কেনাকাটার হিড়িক, টিসিবির ট্রাকেও দীর্ঘ লাইন

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫৫ এএম

একদিকে রোজার শুরু, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ছুটি। আগামীকাল বুধবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য এই সাধারণ ছুটি শুরু হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা আছে। ‘রোজা’ আর ‘লকডাউনের’ অনিশ্চয়তার কারণে বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম। তাই ‘আতঙ্কিত’ ক্রেতারা ভিড় করছেন পণ্যবাজারে। কমপক্ষে ১০ দিনের জন্য পণ্য কিনছেন তারা। যাদের সামর্থ্য তারা পুরো রমজানের বাজার করার চেষ্টা করছেন। বাড়তি কেনাকাটার কারণে বাজারে অতিরিক্ত চাপ পড়লেও গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই-একটি ছাড়া অতিরিক্ত দাম নেওয়ার তেমন  অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাড়তি ভিড় ছিল মুদি, মসলা, ফল, মাছ ও মাংসের দোকানে। ক্রেতারা চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর, ছোলা, ভোজ্যতেল, মাছ, ডিম, মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য কিনছেন। বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করেছেন ক্রেতার চাহিদা মেটাতে। এই সময় অতিরিক্ত মানুষের সমাগম থাকলেও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানেননি। পাইকারি দোকানগুলোতেও ভিড় করেছেন খুচরা দোকানিরা। এক সপ্তাহের জন্য পরিবহন বন্ধ থাকবে এজন্য তারা বাড়তি পণ্য মজুদ করেছেন।

রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা মনিরা ফেরদৌসী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছর লকডাউন (সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের সাধারণ ছুটি) ঘোষণার পরপরই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছিল। বাধ্য হয়ে তখন বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হয়েছে। আবার পরিবহন সংকট থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে পণ্য বাসায় নিতে হয়েছে। এবার তাই আগে থাকতেই বাজার সেরে নিয়েছি। আজকে যে বাজার করেছি তাতে চাল ও তেলে পুরো রমজান চলে যাবে। বাকিগুলোও ১০-১৫ দিন করে যাবে। এসব বাসায় ফ্রিজে রেখে দেব। আর কাঁচাবাজার বেশি কিনতে পারিনি, কারণ নষ্ট হয়ে যায়।’

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাসের হেলপারি করি। লকডাউনে গাড়ি চলবে না। এতদিনও আয় খুব একটা ভালো হয় নাই। তারপরও যদ্দুর পারছি কিনছি। রোজাটা (রমজান মাস) তো চলতে হবে।’ তবে তার সংশয় আয় ছাড়া এভাবে কতদিন চলবে? সরকার বিশেষ ভাতা বা প্রণোদনা না দিলে কয়দিন পরে না খেয়ে মরতে হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা সোহাগ বলেন, ‘গত দুই দিন বেচাবিক্রি বেশ ভালো। দাম সবগুলোই আগের মতো। এখন সরবরাহ যদি কমে যায় তাইলে হয়তো দাম বাড়তে পারে।’

বাজারে গতকাল কেজিপ্রতি মোটা চাল বিক্রি হয়েছে আগের মতোই ৫০ টাকা দরে। ব্রি-২৮ বিক্রি হয়েছে ৫৫-৫৬ টাকা, মিনিকেট ৬৫ টাকা ও নাজিরশাইল ৬৮-৭০ টাকা। লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৩৮-১৩৯ টাকা দরে। তবে রাজধানীর উত্তরার ক্রেতা মাসুম বিল্লাহ জানান, তার কাছ থেকে এক দোকানি সয়াবিন তেলের লিটার ১৪৫ টাকা রেখেছেন। কেজিপ্রতি দেশি রসুন ৮০-৮৫ টাকা বিক্রি হলেও চায়না রসুন বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা দরে। ছোলার কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০-৯০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৮০-৯০, আমদানিকৃত চিকন দানার মসুর ডাল ১০০-১১০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, দেশি আদা ১০০ টাকা, আমদানি করা আদা ১২০ টাকা, চিনি ৭২-৭৪ টাকা। এছাড়া মান ও প্রকারভেদে খেজুর ১৫০-২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আঙুর ফলের কেজিও মানভেদে ১৮০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা।

মাছের দামে বাজারভেদে বেশ পার্থক্য দেখা গেছে। কেজিপ্রতি ছোট আকারের রুই-কাতল ২১০-২৪০ টাকা এবং বড় আকারের রুই-কাতল ৩৫০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩৫০ টাকা, লেয়ার ২২০ টাকা, গরুর মাংস ৫৫০-৬০০ টাকা ও খাসি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

টিসিবির ট্রাকে উপচেপড়া ভিড় : একটু কম দামে পণ্য কিনতে  সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকের সামনে ভিড় করছেন অনেকেই। চৈত্রের খরতাপ সহ্য করে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তারা তেল, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, চিনি ও খেজুর কিনছেন। টিসিবির ডিলাররা বলছেন, লাইন সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকার ট্রাকের লাইনে দাঁড়ানো সোহেল হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভ্যানগাড়িতে আনারস বিক্রি করি। আগে দুই-আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হইত। এহন (এখন) ১ হাজার টাকাও হয় না। বাজারে তো আগুন লাগছে (পণ্যের চড়া দাম)। তাই কষ্ট হইলেও টিসিবির লাইন থেইকা কিনতে আইছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত