জীবিত ফিরলেন বাঘের হামলায় ‘নিহত’ সিরাজুল!

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১১:০২ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম সরদার বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যান। গত ১১ এপ্রিল রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাঘের আক্রমণে তার নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রথম শ্রেণির জাতীয় ও স্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকায় বাঘের হামলায় মৌয়াল সিরাজুল নিহত হয়েছেন এমন খবর প্রকাশিত হয়।

অবশেষে সব খবর অসত্য প্রমাণিত করে বুধবার সশরীরে ফিরে এসেছেন তিনি।

মৌয়াল সিরাজুল সরদার বলেন, ‘আমি জানতাম না আমার মৃত্যুর খবর পেপারে ছাপা হয়েছে। মেয়াদ শেষে ফরেস্ট স্টেশনে পাস জমা করতি আসলি তারা আমাকে দেখে কানাঘুষা শুরু করে। পরে তাগের মাধ্যমে আসল ঘটনা জানতি পারি। তাই সেখানে আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি বাড়ি আসিছি। আবার ফরেস্ট স্টেশনে ফিরতি হবে। সেখানে আনুষঙ্গিক কাজ বাকি আছে।’

এদিকে মৌয়াল সিরাজ সরদার ফিরে এসেছে শুনে তার কাছের ও দূরের আত্মীয়-স্বজনর ভিড় জমান বাড়িতে। গ্রামের মানুষ কৌতূহল মেটাতে দল বেঁধে উপস্থিত হন ওই বাড়িতে। মানুষের ভিড়ে সিরাজ সরদারের ছোট্ট বাড়ি এখন কানায় কানায় পূর্ণ। আত্মীয়-স্বজনদের অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। গ্রামের অনেকে যারা ফেইসবুকে সিরাজ সরদারের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন তারাও তা মুছে ফেলেছেন। 

সিরাজ সরদারের বড় মেয়ে সেলিনা খাতুন বলেন, গত রবিবার তারা খবর পান তাদের বাবার নৌকায় বাঘের হামলা হয়েছে। খালেক নামে গ্রামের এক ব্যক্তি এ খবর ছড়ায়। খালেকের বাবাও মধু সংগ্রহে সুন্দরবনে যান। যে কারণে খবরটির গুরুত্ব দেয় স্থানীয় মানুষ। এ খবর বন বিভাগকে জানালে তারা সেখানে উদ্ধার দল পাঠায়। এদিকে গ্রাম থেকে একটি দল সুন্দরবনে চলে যায় খবর নিতে। এর মধ্যে গত সোমবার দুপুরের পর ফেইসবুকে তার বাবার মৃতদেহ উদ্ধার করে বাড়ি আনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফেইসবুকের ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদপত্রেও ছেপেছেন। অথচ এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে আব্দুল খালেকের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও বলতে পারেন না তিনি কোথায় আছেন। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. গফ্ফার ঢালী বলেন, মানুষ গুজব ছড়িয়ে একটি পরিবারকে কোথায় নিতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ সিরাজ সরদারের পরিবারটি। গত কয়েক দিন ধরে তার স্ত্রী-ছেলেমেয়েদের কান্নাকাটিতে এলাকার আকাশ ভারী হয়ে উঠেছিল। বাবার মৃতের খবর শুনে তার লাশটি উদ্ধারের জন্য মানুষের কাছে ধরনা দিয়েছিল তারা। গত দু’দিনে না খেয়ে শুকিয়ে গেছে তার স্ত্রী ও সন্তানরা।

তিনি গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। 

সুন্দরবনের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন বলেন, বাঘের হামলায় মৌয়াল সিরাজ সরদারের মৃত্যুর খবরে সংবাদপত্রে আমার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। যা আদৌ সঠিক নয়। তবে এ কয়েক দিনের গুজবে অনেককেই হয়রানি হতে হয়েছে। এ ধরনের গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত