বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার খোলাশ গ্রামের মোন্নাপাড়ায় প্রতি বছর ফাল্গুন মাস থেকে টরটরি (টমটম) গাড়ি ও প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি নিয়ে নারী-পুরুষের মধ্যে কাজের ধুম পড়ে যেত। আর চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে গ্রামে থাকত পাইকারদের ভিড়। চৈত্রের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মেলায় যাওয়া শুরু হতো।
কিন্তু এ বছর চিত্র উল্টো। বৈশাখেও এই গ্রামের মানুষ অলস সময় পার করছেন। তাদের আয়ের পথ বন্ধ হলেও খরচ কমেনি। তাই তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ী আর বিভিন্ন এনজিওর ঋণ পরিশোধের চাপে কেউ কেউ ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন।
খোলাশ গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার টরটরি গাড়ি ও প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি করে জীবিকা চালাত। বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন এলাকার মেলায় অংশ নিতেন এই গ্রামের মানুষ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর থেকে বৈশাখী মেলা বন্ধ থাকায় ঋণের কিস্তির টাকার চাপে তারা দিশেহারা।
উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে খোলাশ গ্রাম। গত রবিবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। গ্রামের এক দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন আবু জাফর। তিনি বলেন, প্রতি বছর চৈত্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মেলায় যাওয়ার জন্য দল বেঁধে বের হতাম। বৈশাখ থেকে মেলা শুরু হতো। পাঁচ-ছয় মাস মেলা করে তারপরই বাড়ি ফেরা হতো। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতাম। গত বছর থেকে মেলা করতে পারছি না। কিন্তু কিস্তি দিতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ভ্যানে করে চানাচুর বিক্রি করছি।
খেলনা তৈরির কারিগর জিল্লুর রহমান বলেন, খেলনা তৈরি করে বাবা চার ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতেন। এক বছর হলো মেলা বন্ধ। ঋণের কিস্তির টাকা তো বন্ধ হয়নি। তাই বাবা এবার করোনার মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ফেরি করে খেলনা বিক্রির জন্য বের হয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে পুলিশের চাপে বাবা বাড়ি ফেরার জন্য রওনা হয়েছেন।
খোলাশ কুটিরশিল্প ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আয়তানুর রহমান ফকির বলেন, ‘মেলা বন্ধ থাকায় আমরা দেনার মধ্যে পড়েছি।’
দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেন বলেন, এক বছর হলো ওই গ্রামের লোকজনের দিন ভালো যাচ্ছে না। তবে ঋণের কিস্তিটা আপাতত বন্ধ রাখতে পারলে লোকজনের উপকার হতো।
