মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিপিডি-বিলসের গবেষণা

করোনায় দেশে নতুন দরিদ্র দেড় কোটি মানুষ

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৪৫ এএম

করোনা মহামারীর প্রভাবে দেশে ৩ শতাংশের বেশি শ্রমিক কর্ম হারিয়েছে। এতে প্রায় দেড় কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) যৌথ গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে ‘করোনাকালে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা : কতিপয় প্রস্তাবনা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপ করে সিপিডি ও বিলস। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘করোনায় দেশের প্রত্যেকটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধাক্কা সামলাতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে টিকে থাকার জন্য শ্রমিক ছাঁটাইসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কমে গেছে সাধারণ মানুষের আয়। সব মিলে দেশে নতুন করে দেড় কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনাকালে ৩ শতাংশ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। শহরাঞ্চলে ইনফরমাল ইকোনমি থেকে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ মানুষ কর্ম  হারিয়েছে। আর উচ্চপর্যায়ে ১ কোটি ১১ লাখ থেকে ২ কোটি ৫ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাকরি হারিয়েছে এসএমই ও ইনফরমাল সেক্টরে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ কর্মহীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

গবেষণায় বলা হয়, দেশে দারিদ্র্য ক্রমেই বাড়ছে, ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ শতাংশ হয়েছে। করোনা মহামারীর প্রভাবে এ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখের বেশি মানুষ।

সিপিডি বলছে, স্বল্প আয়ের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। বিলসের তথ্যে, ৪৭ শতাংশ বস্তিবাসী এবং শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী ৩২ শতাংশ মানুষ তাদের খাদ্য খরচ কমাতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের সূত্র উদ্ধৃত করে গবেষণায় বলা হয়, করোনায় সাধারণ মানুষের আয় কমেছে ৩৭ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকায় ৪২ ও চট্টগ্রামে ৩৩ শতাংশ। আর বেতননির্ভর মানুষের আয় কমেছে ৪৯ শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়, করোনায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে দেশীয় শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসা, খাদ্য ও ব্যক্তিগত সেবা। মধ্যম পর্যায়ের ঝুঁকিতে আর্থিক খাত, অভ্যন্তরীণ পরিষেবা, আবাসন ও শিক্ষা খাত। আর কম ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষি, স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ খাত। ফলে শহরাঞ্চলের ৬৯ শতাংশ কর্মজীবী ঝুঁকিতে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএম আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। সংকট উত্তরণে আমাদের ২৩টি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম কাজ করছে। এরই মধ্যে তারা ১৮৬টি কারখানা পরিদর্শন করেছে।’

সংলাপ পরিচালনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টির ট্রেজারার সৈয়দ মনজুর এলাহী। এতে শ্রমিক নেত্রী শিরীন আকতার এমপি, বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. আমিরুল হক আমিন প্রমুখ অংশ নেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত