বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীকে ফাঁসাতে প্রতারণার অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪১ এএম

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ফাঁসাতে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনীম হুমাইদা এবং তার স্বামী রাজুর বিরুদ্ধে। অভিযোগমতে, তারা দুজন বিভাগের এক নারী  শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ওই ফোনেথাকা তথ্য-উপাত্ত চুরি করেন। এরপর তাসনীম হুমাইদা ফেইসবুকে ভুয়া মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট খুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ এনে বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল ও রাহাতুল জান্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নজরুল ইসলাম বরাবর আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাহাতুল জান্নাত বলেছেন, ১২ এপ্রিল সহকারী অধ্যাপক তাসনীম হুমাইদা তাকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এরপর ফোনের লক খুলে ল্যাপটপের সঙ্গে কানেক্ট করে ডেটা চুরির পাশাপাশি জান্নাতকে মেসেঞ্জারে তার (তাসনীম হুমাইদার) পাঠানো বিভিন্ন কথোপকথন ডিলিট করেন। এর পরদিন নিজেই ফেইসবুকে ভুয়া মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট খুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ এনে বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তোফায়েলের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে লিখিত অভিযোগে আবদুল্লাহ আল তোফায়েল বলেন, ‘তাসনীম হুমাইদা গত ৫ এপ্রিল নিজেই তার ফেইসবুক ওয়ালে লিখেছিলেন যে তার ফেইসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি প্রথম বর্ষের সিআর রাহাতুল জান্নাতকেও ডিপার্টমেন্টের ফেইসবুক গ্রুপে একটি স্ট্যাটাস দিতে বলেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাসনীম হুমাইদার আইডি হ্যাক হওয়াসংক্রান্ত স্ট্যাটাস দেন। অথচ তিনি এখন এসে অভিযোগ করছেন আমি তার নামে ভুয়া মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা তোলার কথা বলেছি এবং একজন শিক্ষকের রেফারেন্স দিয়ে একজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে কাজটি করতে বাধ্য করেছি। তার অসংলগ্ন কাজকর্ম এবং লিখিত অভিযোগের অসংগতিপূর্ণ কথাই প্রমাণ করে যে এটা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ। একজন শিক্ষকের এমন হীন ষড়যন্ত্র আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযোগকারী এই  শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক বছর পর তিনি মিড সেমিস্টার ও ইনকোর্স পরীক্ষা গ্রহণ করেন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সম্পন্ন হলেও ২০২১ সালের ওই ব্যাচের মিড সেমিস্টার পরীক্ষা গ্রহণ করেন। ফলে ওই ব্যাচের ফলাফল দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারের একটি কোর্সে কোনো ক্লাস না নিয়ে ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ করেন। তাসনীম হুমাইদা কখনো কোনো ব্যাচের সেমিস্টারের শুরুতে ক্লাস নেন না। বেশির ভাগ সময় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার কয়েক দিন আগে তড়িঘড়ি করে ৪-৫টি ক্লাস নিয়ে ক্লাস শেষ করেন, এমনও হয়েছে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় ক্লাস নিয়ে কোনো রকম কোর্স শেষ করেছেন। অথচ সেই সেমিস্টারও ৮-৯ মাসে শেষ হয়েছে। ক্লাস সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ২৫-৩০ মিনিটের একটি ক্লাসে দুটি অ্যাটেনডেন্ট গ্রহণ করেন। অধিকাংশ সময় তিনি (তাসনীম হুমাইদা) অ্যাসাইনমেন্ট প্রেজেন্টেশন না নিয়েই গড় নম্বর দিয়ে থাকেন। নয় মাস হয়ে গেলেও একটি ব্যাচের ক্লাস শুরু না করার কারণে এর আগে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যাচের সেই কোর্সে ক্লাস নেবেন না বলে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন। তাসনীম হুমাইদার বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কোনো শিক্ষার্থী মুখ খুলতে সাহস পান না।

এসব বিষয়ে শিক্ষার্থী রাহাতুল জান্নাত বলেন, তাকে কোট করে তাসনীম হুমাইদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যে অভিযোগ করেছেন, তার সবই মিথ্যা ও বানোয়াট। তার নাম ব্যবহার করে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং বিভাগীয় প্রধান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাসনীম হুমাইদা তার অভিযোগে যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন, তারা কখনোই তাকে এ ধরনের কোনো কাজ করতে বলেননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত