করোনার টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবার শীর্ষে ভারত। দেশটির টিকার ওপর নির্ভর করে আছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। অথচ ভারতে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে তখন সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউটেরই ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে। ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও অর্থ সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি টিকা উৎপাদন করতে পারছে না। সরকারের কাছে বেশ কয়েকবার সেরাম ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য টাকা চাইলেও, মোদি সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। ফলে ভারত এখন টিকা রপ্তানিকারক দেশ থেকে আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বে করোনার যত টিকা বিক্রি হয় তার ৬০ শতাংশ একাই প্রস্তুত করে ভারত। আর এই কারণেই গ্লোবাল ভ্যাকসিন শেয়ারিং ইনিশিয়েটিভ কোভ্যাক্সে যোগ দিয়েছিল ভারত। জাতিসংঘসহ আরও কয়েকটি সংস্থা মনে করেছিল, ভারতের উৎপাদিত ভ্যাকসিন দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দেওয়া হবে। চুক্তি মোতাবেক সেরাম ভ্যাকসিন উৎপাদনও শুরু করেছিল। ৯২টি দেশের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন তৈরিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতে এখন দিনে দুই লক্ষাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, ভারতে এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ১৪ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্য ও শহরগুলোতে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে সান্ধ্যকালীন কারফিউ জারি হয়েছে। অভিবাসী শ্রমিকরা প্রধান প্রধান শহরগুলো ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। চলমান লকডাউনে শহরে থাকা তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে চাপ হয়ে যাবে, এই বিবেচনায় শহর ছাড়তে শুরু করেছেন তারা।
অন্তত পাঁচটি রাজ্যে টিকা ফুরিয়ে গেছে। রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্যোগী হতে বলা হচ্ছে। এমন অবস্থায় মোদি সরকার ও সেরাম নিজেদের জনগণের ভ্যাকসিন চাহিদা মেটাতে চাইছে, রপ্তানি না করে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে কোভ্যাক্স জানায়, ‘মার্চ এবং এপ্রিল পর্যন্ত সেরাম ভ্যাকসিন রপ্তানি করতে পারবে না। ভারতে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না।’
সেরাম যে এবারই প্রথম ভ্যাকসিন উৎপাদন বন্ধ করেছে এমন নয়। গত জানুয়ারিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কেন্দ্রীয় সরকার। তখন সেরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ও দরিদ্রদের ভ্যাকসিন নিশ্চিতের স্বার্থে আপাতত ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।’ কিন্তু ভ্যাকসিন উৎপাদন বন্ধ করার ফলে মূলত ক্ষতি হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোরই বেশি, যারা কোভ্যাক্সের ভ্যাকসিনের আশা করে আছে।
