সিরিয়ায় গত নয় বছরে ৮২ হাজার ব্যারেল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। গত শুক্রবার সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস গ্রুপের উদ্ধৃতি দিয়ে আনাদলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় বেসামরিক জনগণের ওপর আসাদ সরকারের বাহিনী ওই ব্যারেল বোমাগুলো নিক্ষেপ করেছে। গ্রুপটির এমন দাবি প্রসঙ্গে বাশার আল আসাদ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, বিদ্রোহীদের অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া ৮১ হাজার ৯১৬টি ব্যারেল বোমায় ১১ হাজার ৮৭ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক হাজার ৮২১ জন শিশু ও এক হাজার ৭৮০ জন নারী।
আসাদ বাহিনী ২০১২ সালে ২৩১৪, ২০১৩ সালে ১৪৯৭৬, ২০১৪ সালে ১৯৬৫৪, ২০১৫ সালে ১৭৩১৮, ২০১৬ সালে ১২৯৫৮, ২০১৭ সালে ৬২৪৩, ২০১৮ সালে ৩৬০১, ২০১৯ সালে ৩৭৮ ও ২০২০ সালে ৪৭৪টি ব্যারেল বোমা নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কত সংখ্যক ব্যারেল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে তা বলতে পারেনি সংস্থাটি।
সংস্থাটি আরও বলছে, ২০১২ সাল থেকে আসাদ সরকার ব্যারেল বোমা ব্যবহার করতে শুরু করে। এর মধ্যে বাহিনী ৯৩ বার বিষাক্ত গ্যাস হামলাও চালায়। দামেস্ক, আলেপ্পো, দারা এবং ইদলিবে সবচেয়ে বেশি ব্যারেল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনায় ৭২৮ বার হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ বার হাসপাতালে, ২০৫ বার মসজিদে, ১৮৮ বার স্কুলে এবং ৫৭ বার বাজার টার্গেট করে হামলা চালানো হয়।
যুদ্ধে ব্যারেল বোমা ব্যবহারের অন্যতম কারণ এগুলো বানাতে ৫০ ডলারের মতো খরচ হয়। আর এগুলোর বিধ্বংসী ক্ষমতা মারাত্মক। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই বোমাগুলো ব্যবহার করা হয়। জাতিসংঘ অনেক আগেই যুদ্ধক্ষেত্রে এই বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু তারপরেও সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে ব্যাপক মাত্রায় এই বোমার ব্যবহার হচ্ছে।
আসাদ সরকার যে তার নিজের জনগণের ওপরই গ্যাস হামলা চালাচ্ছে তা নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের একদল তদন্তকারী। কিন্তু যুদ্ধাবস্থা ও সিরিয়ায় বহু দেশের স্বার্থ জড়িয়ে থাকায় কোনো পক্ষই আসাদ ও বিরোধী পক্ষকে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র প্রয়োগের ব্যাপারে কিছু বলতে পারছে না।
