গাজীপুরে শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪৫ এএম

সারা দেশের মতো গাজীপুরেও এখন ধান কাটার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের মাঠে এখন পাকা সোনালি ধানের মৌ মৌ গন্ধ বিরাজ করছে। গত প্রায় ৫ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে কৃষকরা যে ধান রোপণ করেছিলেন এখন সেই ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না তা নিয়ে  শঙ্কিত। পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিকের অভাবে মাঠেই ঝরে পড়ছে কৃষকের স্বপ্ন সেই সোনালি ধান।

বর্তমানে সারা দেশ কভিড-১৯’এ আক্রান্ত। প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ, সেইসঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা। সরকার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের আওতায় নিয়ে এসেছে পুরো দেশ। কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে ধান কাটার জন্য কোনো শ্রমিক গাজীপুরে আসতে পারছে না। ফলে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় যে পরিমাণ ধান ক্ষেত রয়েছে তাতে স্থানীয় কৃষি শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব নয়। এ অঞ্চলের লোকজন উত্তরাঞ্চলের কৃষি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল।

গাজীপুর সদর উপজেলার বেলাই বিল, ভাটিরা বিল এবং আশপাশের ধানি জমি ঘুরে দেখা যায়, ধান পেকে কাটার উপযোগী হলেও তা এখনো মাঠে দোল খাচ্ছে। কিছুদিন আগে গরম বাতাস এবং ঝড়ে ক্ষতির পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু এই মুহূর্তে ধানগুলো কাটতে না পারলে ঝড় এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষক আবুল হাসেম জানান, উত্তরাঞ্চলে কৃষি শ্রমিকদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেছিলেন গাজীপুরে ধান কাটতে আসার জন্য। কৃষি শ্রমিকরা তাদের জানিয়েছে কোনো পরিবহন চালু না থাকায় তারা আসতে পারছেন না। তবে কোনো বাস ভাড়া করে আসতে পারলেও সে বাস আবার উত্তরাঞ্চলে ফিরে যেতে পারবে না ভেবে রিজার্ভ কোনো বাসও আসতে চাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম বলেন, কৃষি শ্রমিকদের গণপরিবহনে কোনো বাধা নেই। সরকারি নির্দেশনায় ¯পষ্ট করে উল্লেখ আছে তারা চাইলে কাজের জন্য যেকোনো স্থানে যেতে পারেন। এখন কেউ যদি না আসে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে ধান কাটার ভর্তুকির ব্যাপারে সরকারি কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত