কাঠের শাটার ব্যবহারেরও অভিযোগ

কয়রায় মরিচা ধরা রড দিয়ে কালভার্ট নির্মাণ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩৮ এএম

খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের গড়িয়াবাড়ি এলাকায় মরিচা ধরা রড ও কাঠের শাটার ব্যবহার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)  বেড়িবাঁধে  ৩০ মিটার  দৈর্ঘ্যরে দুই ভেন্ট কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কাজটি বাস্তবায়ন করছে। এভাবে মরিচা ধরা রড ও কাঠের সাটার ব্যবহার করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করায় কালভার্টটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে আর পানিতে যাবে প্রকল্পের পুরো টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির প্রকৌশলী ও ঠিকাদার যোগসাজশে এই কাজ করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসিতে সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি। কাজের শুরুতে এনে রাখা রড ও আনুষঙ্গিক নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় রডে মরিচা ধরে গেছে। তার ওপর স্টিলের সাটারের (ঢাকনি) পরিবর্তে কাঠের সাটার ব্যবহার করা হয়। কাজের সময়সীমা শেষের পরে দ্রুত ওই মরিচা ধরা রড ও কাঠের সাটার দিয়ে যেনতেনভাবে চলতি মাসের ১৭ এপ্রিল কাজ সম্পন্ন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানান। চেয়ারম্যান সরেজমিনে দেখে ব্যবহারের অনুপযোগী মরিচা ধরা রড ও কাঠের সাটার ব্যবহার করায় কাজটি বন্ধ করে দেন। পরে নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও ঠিকাদার একপ্রকার জোর করে চলতি মাসের ১৭ এপ্রিল মরিচা ধরা রড ও কাঠের সাটার দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, মরিচা ধরা রড ও কাঠের সাটার দিয়ে কাজ করছিল। আমরা এসে বাধা দিলাম কিন্তু ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার আমাদের কথা শুনল না। পরে আমরা চেয়ারম্যানের কাছে গেলাম। তিনি এসে কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু সবার বাধা উপেক্ষা করে ঢালাই দিল ঠিকাদার। 

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী মরিচা ধরা রড এবং ওয়ালে স্টিলের সাটারের পরিবর্তে কাঠের সাটার ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটারের দুই ভেন্ট বক্স কালভার্টটি নির্মাণের কাজটি পায় সুমন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের প্রাক্কলন অনুযায়ী  ২০২০ সালের ২০ জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল কাজ সম্পন্ন করেছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজের অংশীদার মিরান হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে যথাসময়ে কালভার্ট নির্মাণের কাজ করা সম্ভব হয়নি। কাজে মরিচা ধরা রড ব্যবহার করা হয়নি।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুর রহমান তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর মৌখিক অনুমতি নিয়ে মরিচা পড়া রড ও কাঠের সাটার ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছি।

এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত