বিশ্ববাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের ঘোষণা আসতে হবে

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৪৯ এএম

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক পণ্য আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক গণপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোকে সার্বজনীন ভ্যাকসিনের কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে অন্যদেরকেও ভ্যাকসিন তৈরি করতে সহায়তা করা উচিত। গতকাল মঙ্গলবার বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএএফ) ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্ল্যানারি পর্বে প্রচারিত রেকর্ড করা ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। চার দিনের বার্ষিক বিএফএ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘এ ওয়াল্ড ইন চেঞ্জ : জয়েন হ্যান্ডস টু ট্রেংদেন গ্লোবাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কো-অপারেশন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ন্যায়সঙ্গতভাবে ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রত্যেকের ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্র্তৃত্বে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্র্তৃত্বে বিশ্বাসী। প্রত্যেকেরই যাতে ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা পূরণ হয় সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কার্যকর করতে সব দেশের একত্রে কাজ করা প্রয়োজন। করোনার এই সংকটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিলগুলোতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। ডব্লিউএইচও, জিএভিআই এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলো অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রের অধিকারকে সমর্থন করবে এবং ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারী আমাদের ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যাপক এবং এই প্রভাব এখনো বাড়ছে। সুতরাং, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন ও জীবিকার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারীর বিরূপ প্রভাব প্রশমনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আমরা এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা আমাদের জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সার্ক, বিমসটেক, এসএএসসি, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি মডেল লিংকেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই মহাদেশটিতে বিপুল জনসংখ্যা, বিশাল বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা একসঙ্গে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুত এসডিজি অর্জনেও সহায়তা করবে।’

প্রযুক্তি সহযোগিতা বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার। হাইটেক পার্ক, ব্রডব্যান্ড এবং স্যাটেলাইট সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমরা আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করছি। এক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সুবিধাগুলো বিনিময়ের মাধ্যমে এবং পাশাপাশি আমরা সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত