জান্তা নিয়ে আসিয়ানে জুয়া

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৫ পিএম

আজকের আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সবারই প্রত্যাশা গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে মিয়ানমারে জান্তার সহিংস অবস্থান বন্ধে দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা দেশটির সেনাপ্রধানকে চাপ দেবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনসের জাকার্তার বৈঠকের মূল আলোচনাই হবে মিয়ানমার ইস্যুকে কেন্দ্র করে। এই বৈঠক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বৈঠক সফল হলে একটি কার্যকর সমাধানের দিকে যেতে পারবে গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। কিন্তু বৈঠক ব্যর্থ হলে গোটা অঞ্চলে যেমন অস্থিরতা তৈরি হবে, তেমনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে আরও দূরত্ব তৈরি হবে মিয়ানমারের।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত চাপ রয়েছে সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করার। জাতিসংঘের মহাসচিত অ্যান্তনিও গুতেরেস সম্প্রতি বলেছেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের প্রশ্নে অন্য সব সময়ের চেয়ে আসিয়ানের ভূমিকা এখন অনেক বেশি প্রয়োজন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে শান্তির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া দরকার এখনই।’

আসিয়ানের আজকের বৈঠকে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাং নিজেই উপস্থিত হচ্ছেন। আসিয়ানের অন্য নেতাদের পাশে তাকে দেখা যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে মানবাধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, মিন অং হ্লাংয়ের মতো একজন খুনিকে এখনই আন্তর্জাতিক নেতাদের উচিত বয়কট করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্য ল্যান চং সিএনএনকে বলেন, ‘আসিয়ান নেতাদের সতর্ক হওয়া উচিত। জান্তা চাইবে তাদের নেওয়া সব পদক্ষেপকে বৈধ রূপ দিতে। আসিয়ান যদি জান্তার পক্ষ নেয়, তাহলে মিয়ানমারের বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে আরও অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে যা গোটা অঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দেবে।’

আসিয়ানের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার প্রধান চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, ‘আসিয়ান মিয়ানমার ইস্যুতে কোনো বক্তব্য দিতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দেশটির ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারের বক্তব্য না শোনা হয়। আসিয়ানের সত্যিকারের লক্ষ্য যদি গণতন্ত্র সুরক্ষা হয়ে থাকে চার্টার অনুসারে, তাহলে সংস্থার উচিত ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া।’

আসিয়ানের বৈঠকে ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারকে আমন্ত্রণ না করার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। অনেক মানবাধিকার কর্মী ও সংস্থা বিশ্বাস করে, আসিয়ানের উচিত হবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গ ত্যাগ করা। মিয়ানমারের ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারের মুখপাত্র ড. সাসা এক খোলা চিঠিতে জানান, তারা আসিয়ানের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হত্যা, হামলা বন্ধ করলেই কেবল তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা সম্ভব বলেও তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত