প্রতিদিন দেড়শ বাড়িতে ইফতারি বিলি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম

রমজান মাস এলেই হাতে ইফতারির বাটি নিয়ে বাড়ি পৌঁছে যায় তারা। হোক মুসলিম কিংবা ভিন্ন ধর্মের মানুষ। রমজান মাসে গত ৩ বছর ধরেই বাড়ি বাড়ি ইফতার পাঠানোর কাজ করছেন কাঞ্চন পৌর বাজারের পায়রা টাওয়ারের মালিক ও রূপগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েশনের নেতা শফিকুর রহমান।  আর এতে সহযোগিতা করছেন তার পরিবারের লোকজন।  রমজান মাসে প্রতিদিন ১৫০ জনের জন্য খিচুড়ি-বিরিয়ানির আয়োজন করেন তিনি। খাবারগুলো প্রথমে নিজ গ্রাম ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ শুরু করেন তিনি। এভাবে পাড়া-মহল্লা ভাগ করে আশপাশের গ্রাম, এতিমখানা, দরিদ্র অধ্যুষিত এলাকা চিহ্নিত করে প্যাকেট করা খাবার পৌঁছে দেন তিনি। মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের মানুষের বাড়িতেও এ খাবার দেওয়া হয়। মাসে সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে প্যাকেট করা খাবার পৌঁছে দেন তিনি।

কথা হয় শিক্ষার্থী আমেনা রহমানের (১৯) সঙ্গে। তিনি বলেন, রমজান মাস শুরু হলেই শফিক ভাইয়ের উদ্যোগে তৈরি করা ইফতার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করি। অনেক বাড়িতে পুরুষ থাকে না, বা অনেকে পর্দা করেন, তাদের হাতে আমরা ইফতার পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করি। সবচেয়ে আনন্দ লাগে খাবার হাতে পেয়ে যখন মানুষ খুশি হয়।’

খাবার বিলির কাজে নিয়োজিত কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা রহমান (১৫) বলে, ‘পাড়া-মহল্লায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় ভিন্ন ধর্মের লোকের বাড়ি থাকলে তাদেরও খাবার দিই। খাবার পেয়ে মুসলমানদের প্রতি তাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ ধারণা ও সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এটা আমার খুব ভালো লাগে।’

ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, রমজান মাস এলেই আমার দাদি পারিবারিকভাবে সীমিত পরিসরে গ্রামের লোকজনকে ইফতার খাওয়াতেন। সে কার্যক্রম ধরে রাখতে নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামেও ইফতার দিই। কাঞ্চন পৌর এলাকার বাসিন্দা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরণ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত