গুদাম সরাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখছে না টিআইবি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩৪ এএম

রাজধানীর পুরান ঢাকার নিমতলী ও চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পরও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে সেখান থেকে রাসায়নিক গুদাম সরানো সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজশ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সেসব আবাসিক এলাকায় এখনো অবৈধভাবে রাসায়নিক ও দাহ্যপদার্থের গুদাম, কারখানা ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি বলছে, পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরানোর কাজে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়হীনতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাবে নিমতলী ট্র্যাজেডির ১১ বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গঠিত তদন্ত কমিটি ও টাস্কফোর্সের সুপারিশের বেশিরভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব না হওয়ায় আরমানিটোলার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কী কোনোই মূল্য নেই! একটি ঘটনা ঘটলেই এর কারণ অনুসন্ধানে অনেকগুলো তদন্ত কমিটি হয়, আরমানিটোলার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ হবে কতটা? পুরানো ঢাকার নিমতলী ট্র্যাজেডির ১১ বছরেও কেন রাসায়নিকের গুদামগুলো সরানো গেল না? স্থায়ী রাসায়নিক পল্লী কেন প্রস্তুত হলো না? লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ থাকার পরও কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবসা চলছে? এমন সব প্রশ্ন আবারও সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু উত্তর পাওয়া যাবে এমন আশাবাদ করতেও ভয় হচ্ছে। তাই নিমতলীর তদন্ত কমিটি ও টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা প্রতিপালন না করার পাশাপাশি আদালত অবমাননাও করেছে। আবার এসব ঘটনায় করা মামলাগুলোও ঝুলে আছে পুলিশ প্রতিবেদনের অপেক্ষায়। সব মিলিয়ে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নেওয়ার ব্যর্থতার পাশাপাশি দীর্ঘ এই সময়ে পুরো এলাকা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিমুক্ত করায় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা যে পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিল তা বললেও অত্যুক্তি হবে না। একই সঙ্গে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের জন্য পুরান ঢাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি সাধিত হয়নি।’

এ ছাড়াও বিবৃতিতে আরমানিটোলার ঘটনাসহ নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা; ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানা চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি অবকাশ দিয়ে স্থানান্তর; আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক ব্যবসা নিষিদ্ধ; সরকারিভাবে নির্মাণাধীন অস্থায়ী গুদাম প্রকল্প ও স্থায়ী রাসায়নিক পল্লী প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সকল রাসায়নিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর করার জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত