টাঙ্গাইলের বাসাইলে কনা আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই গৃহবধূকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ তার পরিবারের।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে বাসাইল উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাবু মিয়ার দুবাই প্রবাসী ছেলে কবির মিয়ার সাথে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে কনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক দাবিতে তার শাশুড়ি কহিনূর বেগম ও স্বামীর দুই বড় বোন সালমা ও তাসলিমা বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার করতে থাকে। এরপর তার শাশুড়ি দুবাই ও স্বামী সৌদি আরবে চলে যান।
এরপর থেকে ওই গৃহবধূ কনা আক্তার তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শ্বশুরের সাথে বসবাস করতে থাকেন।
এর মধ্যে ননাশ সালমা বেগমের স্বামী অন্যত্র বিয়ে করায় ও তাসলিমা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় তারা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতেই বাস করতে থাকেন।
গৃহবধূ কনার প্রবাসী স্বামী কবির ও শাশুড়ি কহিনূরের টাকা আত্মসাতের পায়তাঁরা করেন তার দুই ননাশ। একপর্যায়ে সোমবার সন্ধ্যায় ওই দুই ননাশ সালমা ও তাসলিমা গৃহবধূ কনাকে মারধর করেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে তার বসতঘরের ধর্নার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূ কনা আক্তারের লাশ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে নিহত গৃহবধূ কনা আক্তারের মা কহিনূর বেগম বলেন, গতকালও আমার মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য দুই ননাশ মিলে মারধর করেছে। পরে রাতের কোনও এক সময় তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঘরের ধর্নার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাছ মিয়া বলেন, পুলিশ লাশটি ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা কিছু বলা যাচ্ছে না।
ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।
