গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে বইছে তীব্র তাবদাহ। প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে দেশ। অতি খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রায় খাল-বিল-পুকুর শুকিয়ে গেছে। মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পবিত্র রমজান মাসে এই অবস্থায় নাভিশ্বাস মানুষের। এরপরও বৃষ্টির দেখা নেই। এই অবস্থায় একমাত্র আল্লাহতায়ালাই ভরসা। তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মপ্রাণ মানুষ একত্র হয়ে নিজেদের উদ্যোগে বৃষ্টি প্রার্থনায় বিশেষ নামাজ পড়ে দোয়া করছেন। যেন আল্লাহতায়ালা দ্রুত বৃষ্টিদান করেন।
বৃষ্টির জন্য দোয়া কামনা ও নামাজ আদায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল ও সুন্নত। এই সুন্নতের অনুসরণে সৌদি আরবে প্রতি বছরই একাধিকবার পবিত্র কাবা ও মদিনার মসজিদের নববিসহ অন্য মসজিদগুলোতে বৃষ্টির জন্য সালাতুল ইসতিসকা আদায় করা হয়। অনাবৃষ্টি কিংবা খরা দেখা দিলেই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) রহমতের বৃষ্টির জন্য নামাজ ও দোয়া করতেন। বৃষ্টি না হওয়ায় তাপপ্রবাহে দেশের মানুষের বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্ট হতে থাকলে প্রয়োজন পূরণের জন্য আল্লাহর দরবারে পানির জন্য প্রার্থনা করে দোয়া করা সুন্নত। একেই আরবিতে বলা হয় ‘ইসতিসকা’ অর্থাৎ পানি প্রার্থনা করা।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টি প্রার্থনার সময় বলতেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দাকে এবং তোমার পশুদের পানি দান করো আর তাদের প্রতি তোমার রহমত বর্ষণ করো এবং তোমার মৃত জমিনকে জীবিত করো।’ Ñমিশকাত
সূর্যোদয়ের পর বিশ মিনিটের মতো সময় অতিবাহিত হলে ইসতিসকার নামাজ পড়তে হয়। এ নামাজ মসজিদে নয় বরং খোলা মাঠে, ঈদগাহে আদায় করা সুন্নত। কেননা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন আমল করেছেন। তবে প্রয়োজনের তাগিদে মসজিদেও পড়া যাবে। ইসতিসকার নামাজ দুই রাকাত। আজান ইকামতবিহীন প্রকাশ্য কেরাতে এ নামাজ আদায় করতে হয়। নামাজের পর ইমাম খুতবা দেবেন। খুতবায় বেশি বেশি ইস্তেগফার ও কোরআন তেলাওয়াত করা। অতঃপর দুহাত উঠিয়ে মিনতির সঙ্গে দোয়া করা এবং হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়া।
ইসতিসকার নামাজের পূর্বে সমবেত মুসল্লিদের ওয়াজ-নসিহত করা বিশেষ করে মানুষের হৃদয় গলে এমন কথাবার্তা বলা। যেমন গোনাহ থেকে তওবার গুরুত্ব তুলে ধরা। অন্যায়ভাবে হাতিয়ে নেওয়া সম্পদ তার হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা, কেননা মানুষের পাপ-গোনাহের কারণেই বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর তওবা-ইস্তেগফার ও তাকওয়া অর্জন দোয়া কবুল হওয়া এবং খায়ের ও বরকত লাভের কারণ। এ নামাজ উপলক্ষে দান-খয়রাতের ব্যাপারেও উৎসাহ দেওয়া, কেননা দান-খয়রাত আল্লাহর রহমত আকৃষ্ট অন্যতম করার কারণ।
ইসতিসকার নামাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করা, যাতে মানুষ ওই দিনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় থাকে। ইসতিসকার নামাজে বিনয় ও নম্রতার সঙ্গে গমন করা সুন্নত। সেই সঙ্গে একমাত্র আল্লাহতায়ালাই যে মানুষের সব প্রয়োজন পূরণ করেন এ মনোভাব অন্তরে জাগ্রত রাখা। নামাজের দিন নামাজ আদায়ের আগ পর্যন্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে কোনো কোনো আলেমদের মত পাওয়া যায়। একদিন, দুই দিন করে তিন দিন পর্যন্ত এই দোয়া-নামাজ আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ফিকাহ শাস্ত্রের কিছু কিতাবে এই উপলক্ষে রোজা রাখাকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। অনাবৃষ্টির এই সময়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনায় সম্মিলিতভাবে দেশের সব এলাকার মুসলমান পুরুষকে অবনত মস্তকে কাকুতি-মিনতির সঙ্গে এ নামাজ আদায় করা দরকার। রহমতের বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা দরকার। আল্লাহতায়ালা আমাদের তার রহমতের বৃষ্টি দ্বারা সিক্ত করুন। আমাদের ওপর দয়া করুন।
