চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপড়েন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে তলানিতে পৌঁছে। পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও পণ্যে করারোপে সম্পর্কটি বিশ্বে বাণিজ্য যুদ্ধের তকমা পায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে পেইচিংয়ের সামরিক তৎপরতা, হংকং ও তাইওয়ানে মানবাধিকার ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের চরম অবনতি হয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর জো বাইডেন সম্পর্ক শিথিলের আভাস দিলেও গত বুধবার চীনের প্রতি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক উপস্থিতি শক্ত করবে পেন্টাগন। বাইডেন এ সামরিক উপস্থিতির পেছনে ‘সংঘর্ষ প্রতিরোধের’ কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের প্রভাব ঠেকাতে আগে থেকেই তৎপর ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন তাতে জ¦ালানি দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ তৎপরতায় ওয়াশিংটন ভারতকে পেইচিংয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন নতুন করে সামরিক উপস্থিতির উত্তেজনা গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।
প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন উপলক্ষে বুধবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বাইডেন বলেন, ‘আমি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি। তারা বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ধত রাষ্ট্র হয়ে উঠতে চাইছে। চিনপিং ভাবেন, গণতন্ত্র স্বৈরশাসনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না। আমি তাকে (চিনপিং) বলেছি, আমরা ইউরোপে ন্যাটোর অধীনে সামরিক বাহিনী রেখেছি। একইভাবে ইন্দো-প্যাসিফিকেও সামরিক উপস্থিতি বাড়াব। এটি সংঘর্ষ নয় বরং সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে করা হবে।’ তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চীন কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি ভারতেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দ্য হিন্দু বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার প্রতিপক্ষ চীনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘আমি চিনপিংকে বলেছি, আমেরিকা প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানাবে, যুদ্ধের পেছনে দৌড়াবে না। কিন্তু আমি এটাও স্পষ্ট করছি, বিশ্বে যেখানেই হোক আমি আমেরিকার স্বার্থই দেখব।’
চীন দক্ষিণ চীন সাগরের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনাই ও তাইওয়ানের একই দাবি স্বীকার করে না পেইচিং। দেশটি দক্ষিণ চীন সাগরের পাশাপাশি খনিজ, তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর পূর্ব চীন সাগরেও সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। এতে কোয়াডের সদস্য ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে গত মাসে কোয়াডের ভার্চুয়াল সভায় বাইডেনও অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভারত কৌশলগত স্বার্থে ভারত মহাসাগরে নৌশক্তি বাড়িয়েছে। কিন্তু চীন পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তাদের সরাতে ব্যস্ত। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা বাড়াবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
