লকডাউনের নিষেধাজ্ঞায়ও চলছে স্পিডবোট

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ০৮:৫৪ পিএম

লকডাউনের নিষেধাজ্ঞায়ও স্পিডবোড চালু রয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে এসব স্পিডবোট চলাচল করছে। সোমবার যার বলি হলো ২৬ প্রাণ। প্রশাসনের দাবি, তদারকির মধ্যেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্পিবোট চালাচ্ছে একটি ‘অসাধু চক্র’।

সোমবার সকালে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হন।

স্থানীয়রা জানান, কিছু অসাধু লোকের জন্য কতগুলো প্রাণ গেল। আগে তাদের বিচার হওয়া উচিত। সাথে যারা এটা পরিচালনা করে।

সরেজমিনে গত এক সপ্তাহ আগে বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে। ফেরিতেও দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ফেরিতে জায়গা পেতে তাড়াহুড়া দেখা গেছে যাত্রীদের মধ্যে। ফেরিতে উঠতে ব্যর্থ অনেক যাত্রী হচ্ছেন স্পিডবোটে। ফেরি ছেড়ে যাওয়ার পরই স্পিডবোট এস যাত্রীদের তুলে নিতে দেখা গেছে। ২৫০-৩০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে তারা। স্বাভাবিক সময়ে এ ভাড়া ছিল দেড় শ টাকা!

জানা যায়, চলমান লকডাউনে গণপরিবহনের সঙ্গে এ নৌরুটের লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ রয়েছে ৫ এপ্রিল থেকে। তবে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে এ নৌরুটে। মার্কেট, শপিং মল খোলার ঘোষণায় শ্রমজীবীদের ঢাকায় ফেরার তাড়া বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের শুক্রবার থেকে নৌরুটে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বড় একটা অংশ পার হন ফেরিতে। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার সকাল থেকে স্পিডবোট ঘাটের পাশের একটি ঘাট থেকে যাত্রী পারাপার করতে দেখা গেছে বেশকিছু স্পিডবোটকে।

যাত্রীদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, ‘তাড়াতাড়ি ঢাকা যেতে হবে। এ জন্য বেশি টাকা দিয়ে স্পিডবোটে পার হচ্ছি।’

খুলনা থেকে আসা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরিতে যাত্রীদের চাপ অনেক। প্রচুর ভিড়। দাঁড়িয়ে থাকতে হবে রোদের মধ্যে পুরো পথ। তাই ফেরি বাদ দিয়ে স্পিডবোটে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে দ্রুত পৌঁছানো যাবে আবার রোদে পুড়তে হবে না।’

আজাহার নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার সুযোগ নাই। গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্পিডবোটে কিছুটা স্বস্তি আছে। তবে নিষেধ থাকায় কিছু কিছু স্পিডবোট বাড়তি ভাড়া নিয়ে ঘাটের বাইরে গিয়ে যাত্রী পার করছে।’

বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, লঞ্চের পাশাপাশি স্পিডবোট চলাচলও নিষেধ। তবে বাংলাবাজার ঘাটের এবং শিমুলিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে আসা কিছু স্পিডবোট যাত্রী পারাপার করছে। যদিও স্পিডবোট ঘাট থেকে না নিয়ে পাশেই নদীর পার থেকে যাত্রী ওঠাচ্ছে তারা। কিছু বোট আবার ফেরির সাথে ঠেকিয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটের এক ব্যক্তি জানান, ‘স্থানীয়ভাবে যারা প্রভাবশালী তাদের বোটগুলো যাত্রীদের পারাপার করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্পিডবোট যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ভাড়াও আদায় করছে দ্বিগুণের বেশি। যদি লকডাইনের আইন মানত তাহলে এতোগুলো মানুষের প্রাণহানী হতো না।

বিআইডব্লিউটিএ’র বাংলাবাজার ঘাট সূত্র জানিয়েছে, নৌরুটে ৮৬ লঞ্চ ও ২ শতাধিক স্পিডবোট রয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতে তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ আছে এসব নৌযান। তবে কিছু অসাধু স্পিডবোট চালক যাত্রী পারাপার করছে।

এ বিষয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘাটে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে গত এক সপ্তাহ ধরে। এরই মধ্যে কিছু কিছু স্পিডবোট ঘাটের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী পারাপার করছে। আমরা সেখানে গেলেই আবার দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে তারা। তবে আমরা চেষ্টা করেছিলাম  যাতে অবৈধভাবে স্পিডবোট যাত্রী পার না করতে পারে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্উএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘নিষেধ থাকার পরও কিছু কিছু স্পিডবোট যাত্রী পারাপার করছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের জানিয়েছিল।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, লকডাইনের মধ্যে যারা অবৈধভাবে স্পিডবোট চালু রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দুর্ঘটনার বিষয় একটি ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। আমরা রিপোর্ট পেলেই আইনগত যে ব্যবস্থা সেটা গ্রহণ করব।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পদ্মার ওপারে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে আসছিল স্পিডবোটটি।

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শিমুলিয়া ঘাট তো তালা মারা। ওই ঘাট দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করছে না। লঞ্চগুলোও ঘাটে নোঙর করা। স্পিডবোটটির চালক চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গোপনে যাত্রী তুলে পারাপার করছিল।

জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে পারাপার হতে হলে ফেরি ব্যবহারের অনুরোধ জানান বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকG

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত