করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন দরকার তা এখনো উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপকহারে টিকা উৎপাদন করছিল। উৎপাদনের পাশাপাশি ভারত অনেক দেশকে টিকাও দিচ্ছিল। কিন্তু দেশটিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাজে পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেরামের পক্ষে এখন আর টিকা রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে দাবি উঠেছে, টিকা প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার। কিন্তু এখানেও বাধা আছে। শীর্ষ ধনী বিল গেটস চাচ্ছেন না টিকার প্যাটেন্ট যেন উন্নয়নশীল দেশের কাছে না পৌঁছায়।
তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে চীন। পেইচিং তাদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ফর্মুলা ও প্রযুক্তি দেওয়া শুরু করেছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকসের তৈরি একডোজের টিকা উৎপাদন করবে পাকিস্তান। আর তা দিয়েই নিজস্ব চাহিদা পূরণ করবে দেশটি। গত সোমবার পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়সাল সুলতান এ তথ্য জানিয়েছেন।
করোনা মহামারী মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চীন এখনো পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান অংশীদার। তারা পাকিস্তানকে করোনা টিকা উপহার দিয়েছে, এমনকি টিকা উৎপাদনের প্রযুক্তিও সরবরাহ করেছে। পাকিস্তানি এ কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন, ক্যানসিনো টিকা উৎপাদন পাকিস্তানকে ধীরে ধীরে নিজস্ব চাহিদা পূরণের মতো স্বাবলম্বী করে তুলবে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, পাকিস্তানে টিকাগ্রহণের যোগ্য ১০ কোটি মানুষের মধ্যে সাত কোটি মানুষকে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই করোনা টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটির সরকার। বর্তমানে সেখানে দৈনিক দেড় লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই সংখ্যা শিগগিরই তিন লাখে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুলতান জানান, প্রায় ২২ কোটি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানে ইতিমধ্যে ২৫ লাখ মানুষ করোনার টিকা পেয়েছে। এই মহামারী মোকাবিলায় টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংক্রমণ রোধে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান সরকারের এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
পেইচিং টিকা প্রযুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তার মিত্রদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমনটাই বোঝা যাচ্ছে প্রথম পদক্ষেপে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, টিকা প্রযুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনকে রাজনীতি করতে দেখা যেতে পারে। কারণ ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর উষ্মা প্রকাশের পর চীনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। আর একথা সবাই জানে যে, করোনায় ইউরোপের অবস্থা ভালো না। চীন যদি ইউরোপকে টিকার প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে, সেক্ষেত্রে টিকা রাজনীতিতে পেইচিংয়ের থেকে পিছিয়ে যাবে ওয়াশিংটন।
চীন ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান করোনার ভ্যাকসিনের ফর্মুলা অন্য দেশকে দেয়নি। অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা সেরামকে যা দিয়েছে তা বাণিজ্যিক শর্তের ভিত্তিতে। এই শর্ত সংক্রান্ত বিষয় ও ভারতের সরকারের সঙ্গে সেরামের বোঝাপড়ার সমস্যার মধ্য দিয়ে সেরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা লন্ডন চলে যান। সেখান থেকে তিনি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আনেন। অভিযোগ উত্থাপনের পর ধারণা করা হয়েছিল, আদর পুনাওয়ালা হয়তো আর ভারতে ফিরবেন না। কিন্তু এসব গুঞ্জনের বাইরে সবচেয়ে বড় খবর পুনাওয়ালা নিজেই দিয়েছেন সম্প্রতি। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে তিনি ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, নিকট আগামীতে টিকা উৎপাদন ও রপ্তানিতে যুক্তরাজ্য বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
