অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
বুধবার এ নিয়ে উভয় পক্ষ আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। গত মঙ্গলবার সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় হট্টগোল ও হইচই এর মধ্যে এ এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি ঘোষণা দেন সমিতির আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা। ওই দিন সমিতির সম্পাদক জানান কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা মুলতবি করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির বিএনপিপন্থী নেতৃবৃন্দ। এ সময় সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি পদ পূরণের বিধান রয়েছে। সে লক্ষ্যে ওই পদ পূরণে বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমিতির সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্লা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিশেষ সাধারণ সভার সভাপতি হিসেবে দাবি করেন। তিনি পরবর্তীতে অতি উৎসাহী হয়ে সমিতির বাকি মেয়াদের জন্য সভাপতির নাম ঘোষণা করেন।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ভোটবিহীন ক্ষমতা দখলের যে চর্চা বর্তমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনরা চালু করেছে, মঙ্গলবারের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে একটি কলঙ্ক জনক অধ্যায় রচিত হলো।
তিনি আরও বলেন, কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে, এটা সমিতির কোনো সদস্য প্রত্যাশা করে না। আমরা আমাদের সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময় করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।
এদিকে বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতির কক্ষে সমিতির আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। সহসভাপতি শফিক উল্লাহ জানান, কার্যকরী কমিটিতে এ এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করার জন্য সমিতির কোষাধ্যক্ষ ড. ইকবাল করিম প্রস্তাব করেন ও সহ- সম্পাদক সাফায়াত সুলতানা রুমি সমর্থন করেন। তিনি নিজে এবং সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির চারজন সদস্য হাত তুলে সমর্থন করলেও সমিতির সম্পাদক রেজুলেশন অন্তর্ভুক্ত না করে দ্রুত সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, আমরা সমিতির গঠনতন্ত্রের ২১, ২২ ও ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ সভা ও বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতির নাম প্রস্তাব করেছি এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো পক্ষ কোনো আইনজীবীর নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব এবং সমর্থন করেননি। এমন পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে এ এম আমিন উদ্দিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট বারের ২০২১-২২ মেয়াদে এক বছরের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ১০ ও ১১ মার্চ দুদিন আইনজীবীদের ভোটগ্রহণ শেষে ১৩ মার্চ ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। নির্বাচনে সরকারপন্থীরা সভাপতিসহ আটটি পদে এবং বিএনপিপন্থীরা সম্পাদকসহ ছয়টি পদে জয়লাভ করেন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার দুদিন পর আবদুল মতিন খসরু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ এপ্রিল মৃত্যুবরণ তিনি করেন। এতে সভাপতির পদটি শূন্য হয়।
এর আগে ২০২০- ২০২১ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন এ এম আমিন উদ্দিন।
