নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে বৈবাহিক জীবন থেকে সম্প্রতি আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের শীর্ষ চতুর্থ ধনী বিল গেটস। দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবন পার করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিস্মিত বিশ্ববাসী। জনপ্রিয় এই দম্পতির এমন সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও বিশ্বে কোনো প্রভাব পড়তে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
গেটস দম্পতি
টেটফ্লিক্সে বিল গেটসকে নিয়ে বানানো একটি তথ্যচিত্রে মেলিন্ডা গেটসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বিল গেটসের মস্তিষ্কে কী আছে? মেলিন্ডা হেসে বলেছিলেন, ‘ওর মস্তিষ্কে অসংখ্য বিষয় আছে। সেগুলো কোনোটাই গোছানো না। প্রচণ্ড এলোমেলো। সব সময় সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করে।’
মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। বিল গেটসের জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আজ থেকে ৩৪ বছর আগে দুজনের পরিচয়। পরিণয়ে দুজন মিলেছিলেন ১৯৯৪ সালে। কীভাবে দেখা হয়েছিল তাদের? মেলিন্ডাকে জিজ্ঞেস করাতে তিনি যেন মুহূর্তেই ফিরে গিয়েছিলেন সেই ১৯৮৭ সালে। মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠার পর বিল গেটস হয়েছিলেন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন। এই প্রতিষ্ঠানেই প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মেলিন্ডা। বাকি মন্তব্য তার ভাষ্যেই, ‘মাইক্রোসফটে আমি খুব কম সময় কাজ করেছিলাম। মাইক্রোসফট থেকে একটি ট্রেড শো ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই আয়োজনে পৌঁছাতে আমার কিছু সময় লেগেছিল কারণ বেশ কয়েকটি মিটিং শেষ করে আমাকে আসতে হয়েছিল। এসে মাত্র দুটো চেয়ার খালি পেলাম। আমি শেষের থেকে দ্বিতীয় খালি চেয়ারে বসলাম। বিল এসে শেষের চেয়ারে বসল। সে খুব মজা করত। ভীষণ এনার্জি ছিল তার। সেই সন্ধ্যায় সে আমাকে বলে, নাচের আয়োজন করা হয়েছে রাতে। তুমি কি আসবে? রাতে আমার অন্য পরিকল্পনা আছে বলে আমি না করে দিই। এ ঘটনার এক মাস পর পার্কিং লটে তার সঙ্গে আমার আবার দেখা হয়। আমি বিল্ডিং থেকে নামছিলাম আর বিল গাড়ি থেকে। দুজনেই গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বললাম। বিল আমাকে বলল, তুমি কি এই শুক্রবারের দুই সপ্তাহ পর আমার সঙ্গে দেখা করবে? আমি খুব বিস্মিত হলাম! শুক্রবারের দুই সপ্তাহ পর! এভাবে হিসাব করে কে দেখা করতে বলে! বিষয়টা আমার জন্য মোটেও আনন্দের কিছু ছিল না। তাকে বললাম, দুদিনের মধ্যে কল করতে, নইলে না করতে। এই ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টা পর আমার বাসায় বিল ফোন করে। বলে, এবার কি বিষয়টা আনন্দময় হয়েছে? ভাবলাম, এক-দুবার দেখা করলে কী আর এমন হবে। তবে সত্যি বলতে সে আমাকে ভীষণ অবাক করেছে। প্রথম সাক্ষাতেই তার সম্পর্কে সব জানতে পারি আমি। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছি। আমি বলতে পারি, মাইক্রোসফটের ভেতরে বসে যে মানুষটা সব সময় প্রেসের সঙ্গে কথা বলছে, একটানা কাজ করে চলেছে সবাই আসলে তার বাইরের খোলসটাই দেখতে পায়। বিলের ভেতরের মানুষটার মন খুব নরম। যেকোনো বিষয়ে তার জানার আগ্রহ ভীষণ।’
বিলের মন্তব্যটাও মেলিন্ডার থেকে খুব বেশি আলাদা নয়। বলেছিলেন, ‘আমরা দুজন দুজনকে নিয়ে যথেষ্ট ভাবতাম। আমাদের শুধু দুটো সম্ভাবনা ছিল। হয় আমাদের দুজনের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে অথবা আমরা দুজন বিয়ে করব।’ প্রথমটির কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। তাই দ্বিতীয় ঘটনাই ঘটে দুজনের জীবনে। বিল বলেছিলেন, ‘মেলিন্ডা সত্যিকারের একজন জীবনসঙ্গী। আমার সঙ্গে তার অনেক বিষয়ে মিল আছে। সে বরাবরই খুব আশাবাদী। আর বিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহও অনেক। আমার চেয়ে মানুষের সঙ্গে সে বেশি ভালো করে কথা বলতে পারে।’
বিয়ে নিয়ে মেলিন্ডার মজার একটি স্মৃতি আছে। যেকোনো বিষয়ে হোয়াইট বোর্ডে লিখে রাখার অভ্যাস আছে বিলের। তিনি বিয়ের পর সেই বোর্ডে দেখেছিলেন সেখানে বিয়ের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে একটি তালিকা লেখা। ঘটনাটি মনে করে মেলিন্ডা বেশ মজা পেতেন। দাওয়াত ছাড়াই চলে আসবেন এমন অতিথিদের আটকাতে ১৯৯৪ সালে হাওয়াই দ্বীপের লানাইতে বিয়ে করেন দুজন। পরিচয়ের পর থেকে জীবনের প্রতিটি কাজে সমর্থন দেওয়া, একসঙ্গে পথ চলা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা, তিন সন্তানকে মানুষ করা সবকিছুই দুজনে মিলে করেছেন। বিয়ের পর বিলের জীবনে অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। মাইক্রোসফট নিয়ে মামলা, আদালতে যাওয়া-আসা, শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফট থেকে সরে দাঁড়ানো সবখানেই বিলের ছায়া হয়েছিলেন মেলিন্ডা। ২৭ বছর এই দম্পতি নিজেদের জীবনে পার করেছেন অসংখ্য ভালো সময়। হয়তো এই ভালোর সঙ্গে মিশেছিল এমন কিছু মন খারাপের মুহূর্ত, যা শুধু জানেন তারা দুজনেই। তাই তো এত বছর পর বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন একসঙ্গে দম্পতি হিসেবে আর থাকা হচ্ছে না তাদের। দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে দুজনের রাস্তা এখন আলাদা হতে চলেছে।
আলাদা হয়ে যাওয়া
বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস দম্পতি মিলে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছেন অসংখ্য উদাহরণ। নতুন জীবন শুরু হোক, অথবা একসঙ্গে অনেকটা পথ চলা, কিংবা পৃথিবীর জন্য জরুরি উদ্ভাবন সবখানেই দুজনের ছিল সমান অবদান। অনুকরণীয় এই দম্পতি ৩ মে বিশ্ববাসীকে জানান তাদের দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলার অবসান করতে যাচ্ছেন তারা। স্বাভাবিকভাবেই এমন খবর বিশ্ববাসীর মনে জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। তবে এ নিয়ে খুব বেশি কিছু জানাননি দুজনের কেউই। আবার কেউ কাউকে অসম্মান করেও কিছু বলেননি। যা হচ্ছে সেটাই জানিয়েছিলেন স্বাভাবিকভাবে। সোমবার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ৬৫ বছর বয়সী বিল গেটস লিখেছিলেন, ‘দুজনে মিলে অনেক চিন্তার পরও সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পর দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি দাম্পত্য জীবন এখানেই সমাপ্ত করার। দম্পতি হিসেবে সামনের জীবনে একসঙ্গে চলতে পারব এমনটি আমরা কেউই আর বিশ্বাস করছি না। এই ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তানকে বড় করেছি, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সুস্থ জীবনযাপনের লক্ষ্যে দুজনে মিলে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি।’
এ ঘোষণার পর বিশ্ব জানতে পারে সেদিনই তারা দুজনে মিলে সিয়াটলের আদালতে তালাকের কাগজপত্র সাইন করে এসেছেন। বৈবাহিক জীবনের অবসানের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবই আদালতকে করার জন্য অনুরোধ করে এসেছেন। তাদের দুজনের মধ্যে বিচ্ছেদ চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেই চুক্তিতে কী আছে তা জনসম্মুখে আনা হয়নি। আইনি বিষয় সম্পাদনের জন্য তিনজন আইনজীবীকে বাছাই করা হয়েছিল।
ঠিক কী কারণে গেটস দম্পতি আলাদা হচ্ছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রচার করা হয়নি। তবে কিছুদিন আগে থেকেই মেলিন্ডা অভিযোগ করে আসছিলেন বিল তার কর্মজীবনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন মিলিয়ে চলতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন হয়তো এ বিষয়টি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়েছে। যার ফলাফল তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া।
বিচ্ছেদের আর্থিক মূল্য
ওয়াশিংটন রাজ্যের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে দাখিল করা বিচ্ছেদ চুক্তিতে তারা দুজন তাদের যে যৌথ সম্পদ আছে তা ভাগ করে নিতে চেয়েছেন। ওয়াশিংটন রাজ্যে বাস করা কোনো দম্পতি তাদের বৈবাহিক জীবনে যে সম্পদ গড়ে তোলে, তার বেশির ভাগ যৌথভাবে তাদের দুজনের সম্পত্তি হয়ে থাকে এবং বিচ্ছেদ হলে তা দুজনের মধ্যে সমান ভাগ করে দেওয়া হয়।
গেটস দম্পতি বর্তমানে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের মালিক। তারা আলাদা হচ্ছেন মানে বিপুল এই সম্পত্তিরও ভাগ হবে। মাইক্রোসফট করপোরেশনের সঙ্গে বিল ক্যাসকেড ইনভেস্টমেন্ট নামে আরও একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মেলিন্ডাকে এই প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপত্তা বাবদ ১.৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে। ১.৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে কানাডানিয়ান ন্যাশনাল রেলওয়ের শেয়ারে এবং ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে অটোন্যাশন স্টককে। ক্যাসকেডের কাছে এখনো রিপাবলিক সার্ভিস, ডিয়ার অ্যান্ড কোম্পানি ও ইকোল্যাবের সিকিউরিটিসহ ৫০ বিলিয়ন ডলার জমা আছে।
গেটস দম্পতির ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সম্পত্তির কারণে তারা হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী। আর এ কারণে পৃথিবীর ভালোর জন্য কোটি কোটি টাকা দান করেছেন অনেক আগে থেকেই। তাদের তৈরি করা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি থেকে আগে যেভাবে মানুষ উপকৃত হয়েছে, পরেও এভাবে সবাই উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন এই দম্পতি। তাদের সম্পত্তির একটি বিশাল অংশ মানুষের জন্য দান করা হবে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, আবহাওয়ার পরিবর্তন নীতি ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে তারা অনুদান দেওয়ার কথা বললেও যে ৫০ বিলিয়ন ডলার এখনো বাকি রয়েছে, সেটি কীভাবে দেওয়া হবে তা নির্ভর করছে এই দুজনের মিলিত সম্মতির ওপর। আরবান ইনস্টিটিউট সেন্টার অন নন-প্রফিটস অ্যান্ড ফিলানথ্রপির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট বেঞ্জামিন সসকিস বলেন, ‘বিষয়টি যতটা সহজ মনে হচ্ছে আসলে তা নয়। কোন অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এর ওপর তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব পড়ছে। শুধু অর্থ তৈরি ও সম্পদ বাড়ানোর জন্য গেটস ফাউন্ডেশন কাজ করে তা নয়, প্রভাবশালী আর গুরুত্বপূর্ণ মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও বিশ্বে তাদের নাম উজ্জ্বল। বিল ও মেলিন্ডা নিজেদের যোগ্যতাতেই অনুকরণীয় পাবলিক ফিগার হয়ে উঠেছিলেন।’
আমেরিকার যত মূল্যবান জায়গা আছে তার মধ্যে গেটস দম্পতির বাড়ি অন্যতম। এ ছাড়া ওয়াশিংটনের মেডিনায় ৬৬ হাজার বর্গফুটের বাড়িও আছে তাদের। এই বাড়ি কীভাবে বিক্রি হবে অথবা বিক্রয়ের আর্থিক মূল্যের মালিক কে হবেন সেটিও নির্ধারিত হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে জানা যায়নি। তারা যে জায়গায় থাকেন সেটি মূলত কমিউনিটি প্রোপার্টি স্টেট। অর্থাৎ বৈবাহিক জীবনে যাই হোক না কেন দম্পতির মধ্যে সবকিছু সমানভাবে ভাগ হবে। এর অর্থ অবশ্য এমন নয় যে, তাদের ভাগ্যও সমানভাবে বিভক্ত হবে। ওয়াশিংটনের পারিবারিক আইনজীবী জ্যানেট জর্জ বলেন, ‘বাধ্যতামূলকভাবে ৫০-৫০ অংশ শেয়ার হবে এমন নয়। যা আছে এবং যতটুকু দেওয়া সম্ভব তার মাঝে আদালত কিছু কমবেশি করতে পারে। তবে এই বিভক্তির ভাগ কতটুকু বা কেমন হবে সে নিয়ে তারা কখনোই জনসম্মুখে কথা বলবেন না। কারণ ব্যক্তিগত এসব বিষয় তারা গোপন রাখতেই পছন্দ করেন।’
গেটস ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ
বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের নিজস্ব উদ্যোগে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ সালে। সে থেকে আজ অবধি পৃথিবীর অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফাউন্ডেশনটি খরচ করে চলেছে। এটি বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দাতব্য সংস্থা। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ৫০ বিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থ ব্যয় করেছে দাতব্য কাজে। এশিয়া-আফ্রিকার অনুন্নত দেশসমূহে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সচেতন, শিক্ষিত ও স্বাস্থ্যবান বিশ্ব গড়ে তোলা এ সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য। সংস্থাটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা, অনুন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য খাতে অনুদান, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, প্রাণঘাতী ব্যাধির ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিনিয়োগ ও অনুন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সাহায্য দিয়ে থাকে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বিল গেটসের দাতব্য সংস্থা কোনো ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদের দাতব্য কাজ চালায় না, পৃথিবীর প্রতি নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এমনটা করে থাকে।
‘দাতব্য কাজ মূলত দুটি কারণে করি। একই সঙ্গে এটি অর্থপূর্ণ ও চমৎকার একটি বিষয়’। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের এক বার্ষিক রিপোর্টে নিজের দাতব্য কাজ নিয়ে এভাবেই অভিব্যক্ত করেন বিল গেটস। করোনা প্রকোপে এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের জন্য ১.৭৫ ডলার বিলিয়ন ডলারের সাহায্য পাঠানো হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে। গেটস ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও গেটস ফাউন্ডেশনের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাবেন গেটস দম্পতি। বিল ও মেলিন্ডা এখনো ফাউন্ডেশনের সহ-চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি হিসেবে থাকবেন। প্রতিষ্ঠানে তাদের দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ফাউন্ডেশনের নিয়মনীতি, বিভিন্ন ইস্যু, সর্বোপরি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তারা একসঙ্গে কাজ করবেন ও সিদ্ধান্ত নেবেন। সসকিস বলেন, ‘বিল ও মেলিন্ডা শুধু পর্দার পেছনে কাজ করে যাওয়া তারকা নন। তারা দুজনেই সিদ্ধান্ত প্রস্তুতকারক। তারা পৃথিবীর ভালোর জন্য কাজ করতে সব সময় প্রস্তুত।’
