দুমকিতে জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট : ০৬ মে ২০২১, ০৪:৪৯ এএম

পূর্ণিমার জোর প্রভাবে গত মঙ্গলবার থেকে পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা-লোহালিয়া নদীর জোয়ারে নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে উপজেলার পাংগাশিয়া, আংগারিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির মুগডালসহ রবি ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে ব্যাপক ফসলহানির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

গত বুধবার সরেজমিন পাংগাশিয়া, আংগারিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় জোয়ারে রবি ফসলের ক্ষেত তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে। পাংগাশিয়া ইউনিয়নের পায়রা নদীর তীরঘেঁষে চান্দখালী, রাজগঞ্জ, দক্ষিণ ও মধ্যপাংগাশিয়া, বাঁশবুনিয়া ও আলগি, আংগারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম আংগারিয়া, বাহেরচর, জলিশা, মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবদি, উত্তর মুরাদিয়া ও দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার নদী তীরবর্তী এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ভেতরে ও বাইরের কয়েকশ একর জমির মুগডালসহ রবিশস্যের ক্ষেত হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়নি। আবার আংশিক যেনতেন মেরামত করায় ফাঁকফোকর ও ভেঙে যাওয়া স্থান দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ পাংগাশিয়া গ্রামের কৃষক ইউসুব মল্লিক জানান, গত মঙ্গলবার পায়রা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে রবিশস্যের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, তার এলাকায় পানি না কমায় ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি নিষ্কাশন করা না গেলে মুগডাল, বাদাম, আলু, মরিচসহ কোনো রবি ফসল ঘরে ওঠানো যাবে না। একই অভিযোগ রাজগঞ্জের জসিম উদ্দিন, বাঁশবুনিয়ার আবদুল গনি খান, রুহল আমীন ফরাজী, পশ্চিম লেবুখালী গ্রামের আবদুস ছত্তার হাওলাদারসহ অনেক কৃষকের।

এদিকে আংগারিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ভেতরে ও বাইরে শত শত একর মুগডালের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম চৌকিদার বলেন, বেড়িবাঁধের বাইরের চরের অন্তত তিন একর জমিতে মুগডাল, বাদাম, আলু, মরিচসহ রবিশস্যের আবাদ করলেও সম্প্রতি লবণপানিতে তলিয়ে তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধের ভেতরের জমিতে যৎসামান্য মুগডালসহ রবিশস্য ছিল, এখন আবার তাও জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে আছে। একই অভিযোগ ওই এলাকার মোশারেফ চৌকিদার, আবুল কালাম খান, হানিফ হাওলাদারসহ অনেকের। তারা বলেন, পানিতে তলিয়ে থাকা ক্ষেত থেকে আর ফসল ঘরে আসবে না। পানিতে রবি ফসলের মুগডালের অর্ধেক এবং মরিচ, আলুসহ অন্যান্য ফসলের সম্পূর্ণই ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহের মালিকা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মুগডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর। অনাবৃষ্টি, লবণাক্ত পানির প্রভাব সর্বশেষ পূর্ণিমার জো’তে পানিতে তলিয়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, মুগডালের অর্ধেক ফসল কৃষকের ঘরে আগেই তোলা হয়েছে। আলু, মরিচ, বাদামসহ অন্যান্য ফসলেরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের জরিপে সরকারি হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৫-৩০%।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত