দীর্ঘ তিন সপ্তাহের বেশি বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীজুড়ে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। বাস চালুর প্রথম দিনেই নগরী যেন ফিরে পায় তার চেনা রূপ। রাজধানীর বেশিরভাগ প্রধান সড়কে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।
নগরীর বিজয় স্মরণী, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, সাইন্সল্যাব, ধানমন্ডি, ঝিগাতলা মোহাম্মাদপুর, বসিলা, মৌচাক, মগবাজার, কাকরাইল, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, নয়াবাজার, পল্টন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে। পাশাপাশি বিপণিবিতানগুলোর সামনের সড়কে যানজট ছিল আরো বেশি।
তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বাস চালু করতে পেরে খুশি পরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলছেন, ‘ বাস চলতেছে দেইখা কয়ডা টাকা কামাই হইব। দুইডা ডাল-বাত খায়া বাঁচতে পারমু। সবই চলছে খালি বাস বন্ধ কইরা রাখছিল সরকার। তবে এমনে চললে পরিবার লইয়া কোনোমতে ঈদ করতে পারমু। ’
গণপরিবহন চলাচলকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পাঁচ দফা নির্দেশনা প্রদান করে।
যার মধ্যে রয়েছে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, কোনোভাবে মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না, সমন্বয়কৃত ভাড়ার (বিদ্যমান ভাড়ার ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি) অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না, ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পরিবহনের মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে সরেজমিনে রাজধানী ঘুরে দেখা যায়, বাসের চালক, কন্ডাক্টর, হেলপারসহ যাত্রীদের কাউকে কাউকে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। অনেকে মাস্ক পড়লেও তা ছিল থুতনির নিচে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারেও দেখা গেছে গাফেলতি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিটি সার্ভিসে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব নয়। তবে দূরপাল্লার গাড়িতে এগুলো মানা সম্ভব’ ।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি শুধু কাগজে আছে। রাস্তায় নাই। গাড়িতে নাই। এসি রুমে বসে প্রজ্ঞাপন জারি করলেই তো স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব নয়। পরিবহন শ্রমিক এবং বাস মালিকদের এ নিয়ে কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নাই’।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ২১ মার্চ থেকে সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার। দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গেল বছরের ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তখন ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়।
দীর্ঘদিন এভাবে চলার পর করোনা সংক্রমণ কমলে গত সেপ্টেম্বর মাসে শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তখন থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ আসনেই যাত্রী নিয়ে চলছিল গণপরিবহন। পরে গত ৩১ মার্চ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে শুরু হয় গণপরিবহনের চলাচল।
দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ নামে পরিচিতি পায়। এই বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন আগের মতোই বন্ধ ছিল।
