মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সব নৌরুটে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। এতে করে কর্ম হারিয়ে বিপাকে পড়েছে চাঁদপুরের সহস্রাধিক লঞ্চঘাট শ্রমিক ও নৌযানকর্মী। এ দুঃসময়ে কোনো সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে শ্রমিকরা।
চাঁদপুর লঞ্চঘাটের শ্রমিক সর্দার আবদুর রশিদ। পঞ্চাশোর্ধ্ব রশিদ দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ কুলির কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু চলমান লকডাউনে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। বলছিলেন, ‘দীর্ঘ কর্মজীবনে অনেক খারাপ সময় পার হয়েছে। অনেক সময় হরতাল বা প্রাকৃতিক কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকত। কিন্তু এখনকার মতো এমন কঠিন সময় আর কখনো আসেনি আমার জীবনে। লঞ্চের পাখা ঘোরা বন্ধের সঙ্গে আমাদের সংসারের চাকা ঘোরাও বন্ধ হয়ে গেছে।’
আবদুর রশিদ বলেন, ‘এ ঘোর দুঃসময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসেনি কেউ। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার সীমা নেই। আমরা সরকারের কাছে সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত লঞ্চ চলাচলের দাবি জানাচ্ছি।’
শুধু আবদুর রশিদই নয়, কর্ম হারিয়ে তার মতো মানবেতর জীবন কাটছে চাঁদপুর লঞ্চঘাটের শ্রমিক ও লঞ্চকর্মীদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে রয়েছে তারা।
লঞ্চঘাট শ্রমিক আবদুল কাদের বলেন, ‘সামনে যে ঈদ আসছে, আমাদের বউ-পোলাপানদের জন্য কিছু কেনা তো দূরের কথা, একটু সেমাই কেনার সামর্থ্যও নেই।’
এমভি ঈগল-৭ লঞ্চের স্টাফ মো. শওকত বলেন, ‘আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ মেলাতে পারছি না। এভাবে কর্মহীন থাকলে আমাদের পরিবারগুলো পথে বসবে।’
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা কাউসারুল আলম বলেন, দেশে ‘লকডাউনের’ কারণে গত ১৪ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে চলাচল বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। এতে করে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১২টি রুটে চলাচল করা প্রায় অর্ধশত লঞ্চ বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করা আছে। তিনি বলেন, ‘গত বছর দেশে করোনার সময়ে চাঁদপুরের লঞ্চঘাট শ্রমিকদের সহায়তা করা হয়েছিল। এ বছর এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা করা হয়নি। তবে আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চাঁদপুর লঞ্চঘাট শ্রমিকদের সহায়তা করা হবে। তাছাড়া যারা লঞ্চের কর্মী রয়েছেন তাদের কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সহায়তা করার কথা রয়েছে। তাদেরও অচিরেই সহায়তা করা হবে।’ পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়। তারা যখন লঞ্চ চলাচলের জন্য উপযুক্ত সময় মনে করবেন তখন থেকে ফের চাঁদপুরসহ সারা দেশে লঞ্চ চলাচল শুরু করা হবে।’
