‘গায়েবী কান্না’র উৎস খুঁজে পাওয়া গেল নির্মম নির্যাতনের ঘটনা

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ০৯:৪৫ পিএম

রাজধানীর মিরপুর দুই নম্বর সেকশনে দীর্ঘদিন কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিল এলাকাবাসী। তবে কান্নার উৎস খুঁজে পাচ্ছিল না কেউ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেইজে এ তথ্য জানান স্থানীয় একজন। পুলিশ কান্নার রহস্য উদঘাটনে গিয়ে দেখতে পেলো এক ব্যক্তি প্রতি রাতে তার পরিবারের দুই শিশু সন্তান ও মাঝে মধ্যে তার স্ত্রীর হাতপা বেঁধে বেধড়ক পেটায়। তাদেরই কান্নার শব্দ শুনতে পেত সবাই।

পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় জাঙ্গীর নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. সোহেল রানা জানান, মিরপুর থেকে বার্তা দিয়ে জানানো হয়, মিরপুরের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক প্রকল্পে রাতের বেলা প্রায়ই কান্নার শব্দ পাওয়া যেত। কয়েকদিন চেষ্টা করেও কেউ কান্নার উৎস জানতে পারেননি। পরে এক ব্যক্তি পুলিশের পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পুলিশ’ ফেইসবুক পেজের ইনবক্স তথ্যগুলো জানান। এ প্রেক্ষিতে, পুলিশ সদর দফতর থেকে ‘গায়েবি কান্না’র রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব দেওয়া হয় মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে।

মিরপুর থানার ওসির নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একটি দল ওই নির্মাণাধীন প্রকল্পে যায়। প্রথম দিন কিছু না পেয়ে দলটি পরপর দু’দিন রাতের বেলা ওই এলাকায় অবস্থান করে। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে তারা দেখতে পান, হাউজিং কমপ্লেক্সের ভেতরে পরিত্যক্ত একটি ভবনে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের নিয়ে থাকেন। প্রতিদিন রাতে তিনি তার সন্তানদের হাত-পা বেঁধে মারধর করেন। সেই চিৎকার শোনা যেত বহুদূর থেকে। এ ছাড়া স্ত্রীকেও নানা সময় নির্যাতন করতেন। স্ত্রী ও শিশুদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নির্যাতনকারী ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায় ওই ব্যক্তির নাম মো. জাহাঙ্গীর। তিনি দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশনে। ঢাকায় থাকার জায়গা না পেয়ে গোপনে পরিত্যক্ত ওই নির্মাণাধীন ভবনে থাকতেন। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইগনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত