লকডাউনে আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে ইয়াবার চালান। প্রতিদিন বানের স্রোতের মতো আসছে ইয়াবা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ইয়াবার চালান আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা জব্দ করলেও বেশিরভাগ ইয়াবা পাচার হয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সম্প্রতি টেকনাফ সাবরাং মুন্ডার ডেইলঘাটস্থ সমুদ্রসৈকত থেকে খালাসের সময় ইয়াবার বিশাল একটি চালান লুটের ঘটনায় এখনো কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
দেশে ইয়াবা পাচারের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হচ্ছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী ৩০টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে পাচার হয়ে আসছে ইয়াবার চালান। এসব পয়েন্টে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত। এ কারণে এসব ইয়াবা কারবারিকে চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইয়াবা কারবারি ও গডফাদারদের তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় কিছু কারবারি পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও আত্মসমর্পণের নামে বেশিরভাগ ইয়াবা কারবারি কারাগারে রয়ে যায়। এসব ইয়াবা কারবারি জামিনে বের হয়ে পুনরায় ইয়াবা কারবারে ফিরেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত ১৪ এপ্রিল লকডাউন ঘোষণার পর কক্সবাজারের জেলা পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনী নানা কাজে ব্যস্ততার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে কারবারিরা। এ কারণে প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বানের স্রোতের মতো আসছে ইয়াবার চালান। কক্সবাজারের সীমান্ত যেন ইয়াবার স্রোত।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল লকডাউনের পর আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে কোটি টাকার ইয়াবার চালান। পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ১৭ এপ্রিল ইয়াবা পাচারের সময় চকরিয়া থানা পুলিশ রোহিঙ্গা যুবকের পেট অপারেশন করে ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ইয়াবা উদ্ধার করে। একই ভাবে গত ২১ এপ্রিল উখিয়া থানা পুলিশ ইয়াবাসহ চার কারবারিকে আটক করে। ২২ এপ্রিল উখিয়ার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ২৩ এপ্রিল টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনজন চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। একই দিন ৭ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ নারী ইয়াবা কারবারিকে গ্রেপ্তার করে উখিয়া থানা পুলিশ। ২৫ এপ্রিল ইয়াবাসহ উখিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় দুই ইয়াবা কারবারি। সবচেয়ে বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয় গত ২৮ এপ্রিল। এদিন টেকনাফের উনছিপ্রাং থেকে বিজিবির সদস্যরা ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। একই দিন উখিয়া থানা পুলিশ নারীসহ ইয়াবা উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয় উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ইয়াবাসহ তিনজনকে। কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে সেন্ট্রাল হসপিটালের কর্মচারীকে আটক করে। টেকনাফ থানা পুলিশ ইয়াবাসহ দুজন অটোরিকশা চালককে এবং উখিয়া থানা পুলিশ ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। গত ২ মে সবচেয়ে বেশি ইয়াবার চালান উদ্ধার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। এদিন টেকনাফের চৌধুরীপাড়া চিতা পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে আড়াই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
এদিকে ইয়াবা কারবারিদের পাশাপাশি কিছু অসাধু আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যও ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। গত ২২ এপ্রিল রাতে উখিয়ায় ইয়াবাসহ এপিবিএনের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ৮নং এপিবিএনের এসআই সোহাগ, কনস্টেবল মিরাজ ও কনস্টেবল নাজিম।
কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোমেন ম-ল বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট দীর্ঘদিনের। কিছুদিন ইয়াবা পাচার ঝিমিয়ে থাকলেও বর্তমান সময়ে এসে ব্যাপক হারে বেড়েছে। এজন্য আমাদের আরও সক্রিয় হওয়া দরকার।
জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, এসব কারবারিকে ধরতে সব সময় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
