সিলেটে মার্কেট-শপিংমলে ভিড়

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ১২:২১ এএম

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে সবখানে। সড়ক, মার্কেট, শপিংমলে গা ঘেঁষে চলছে মানুষ। স্বাস্থ্যবিধির কথা ভুলেই যেন সবাই ব্যস্ত ঈদের কেনাকাটায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনেরও নেই কঠোর নজরদারি। মার্কেট-শপিংমলগুলোর কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে উদাসীন। অনেক দোকানে ক্রেতার চাপে পা ফেলারও জায়গা নেই। দোকানপাট খোলা থাকছে মধ্যরাত পর্যন্ত। এ অবস্থায় সিলেটে করোনা সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।      

নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, লামাবাজার প্রভৃতি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মার্কেট ও বিপণিবিতানে ক্রেতার ভিড়। নারী-শিশুসহ সব বয়সী মানুষ ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত। গাদাগাদি করে মানুষ ঘুরছেন এক দোকান থেকে আরেক দোকানে, কিনছেন পছন্দের পোশাক। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। কেউ কেউ মাস্ক পরেছেন ঠিকই, কিন্তু তা থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছেন।

তিন সন্তানকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত গৃহিণী সুলতানা পারভিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার ভয় অবশ্যই আছে। কিন্তু ঈদের কেনাকাটা না করলেও হচ্ছে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মার্কেটে এসেছি। তবে মার্কেটে এসে দেখছি, বেশিরভাগ মানুষই স্বাস্থ্যবিধির কথা ভুলে গেছেন। এটা দেখে ভয় হচ্ছে। তাই দ্রুত কেনাকাটা শেষ করে চলে যাচ্ছি’।

জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী হাসান আহমদ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বেচাকেনা ছিল না, গত কয়েক দিন ধরে কেনাবেচা বেড়েছে। এ বছর বিক্রি আরও বাড়তে পারে বলে আমরা আশাবাদী। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে, ব্যবসা করে সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চাই।

নগরীর মতো একই রকম দৃশ্য শহরতলির বাজারগুলোতে। মেজরটিলা, শাহপরান (রহ.), খাদিমপাড়া এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতার ভিড় দেখা গেছে। খাদিমপাড়ার একটি দোকানে মুখে মাস্ক ছাড়াই ঈদের পোশাক কিনতে এসেছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের জাকির মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা গেরামের মানুষ, আমাদের করোনা হবে না।’

ঈদের কেনাকাটা ও স্বাস্থ্যবিধি প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আবদুুর রহমান রিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে এবারও সিলেটে তেমন প্রবাসী আসেনি। এ কারণে ঈদ বাজার পুরোপুরি জমবে না। তবে ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে সিলেটে, সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে। করোনার সংক্রমণরোধে যেকোনো মূল্যে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও প্রচার-প্রচারণা চলমান রয়েছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যবিধি লংঘিত হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত