দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকার সুযোগ নিচ্ছিল তারা

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ০৯:৫১ পিএম

দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ঘরমুখো যাত্রীরা ভাড়া করছে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস। আর এ সুযোগ নিচ্ছে একটি চক্র। অসহায় যাত্রীকে জিম্মী করে মুক্তিপণ আদায় তাদের মৌসুমি পেশা। ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, টাকা, স্টিলের পাইপ ও রশি-দড়িসহ এমন একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি লকডাউন দূরপাল্লার বাস বন্ধ রয়েছে। ঈদ ঘরমুখো মানুষ যার যার কর্মস্থল থেকে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন উপায়ে বাড়ি ফিরছেন। এ সুযোগে রেখে প্রাইভেটকার, মাইক্রো, হাইস ভাড়া নিয়ে তুলনামূলক কাম ভাড়া চেয়ে মহাসড়ক থেকে যাত্রী তুলে নেয় চক্রটি। পরে সুযোগমতো হাত-পা বেঁধে চালায় অবর্ণনীয় নির্যাতন! পারিবারিক সক্ষমতা অনুযায়ী দাবি করে মুক্তিপণ বা চাঁদা!

কাঙ্খিত টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ হলে তবেই মুক্তি মেলে ভিকটিমদের। তাদের ফেলে দেয়া হয় মহাসড়কের কোনো নির্জন স্থানে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার মো. ফারুক হোসেন (৪৩) এক যাত্রী প্রতারিত হয়ে আসেন মানিকগঞ্জ থানায়। অভিযোগকারী শিক্ষক মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রাজবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন। ওঠার পরপরই পাশের সিটে যাত্রীবেশে থাকা দুর্বৃত্তরা হাত-পা বেঁধে মারধর শুরু করে দাবি করে লক্ষাধিক টাকা।

পৃথক দুটি বিকাশ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের পরই তার মুক্তি মেলে। তাকে রাজবাড়ী না নিয়ে গাবতলিতে নামিয়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনার অভিযোগ পেয়ে দ্রুত মামলা রুজু করে মানিকগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন যশোরের অভয়নগর এলাকার মো. আবুল বাশার (৪২), নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার মো. আলীম হোসেন শেখ (৩৫) ও পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার বাবর আলী বাবু (৩২)।

তারা ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, কম ভাড়া পেয়ে অথবা কোনো অবস্থায় অননুমোদিত যানবাহন ও অপরিচিত কারো গাড়িতে ভ্রমণ করবেন না। আটকদের আইনি পক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত