যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে জোট ‘কোয়াড’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘যথেষ্ট খারাপ’ করবে বলে সতর্ক করেছেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। গতকাল সোমবার ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডিক্যাব) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দেওয়া চীনা কোম্পানি সিনোফার্মের পাঁচ লাখ টিকার চালান আগামীকাল বুধবার ঢাকায় আসবে। গত ৮ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়।
কোয়াডে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ ধরনের ছোট গোষ্ঠী বা ক্লাবে যুক্ত হওয়াটা ভালো নয়। বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে তা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যথেষ্ট খারাপ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চীন মনে করে কোয়াড একটি গ্রুপ এবং এটি চীনবিরোধী আমি এটি পরিষ্কার করে বলতে চাই। কোয়াড নিজেকে অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত বলে দাবি করে, কিন্তু এটি সত্যি নয়। মূলত কোয়াড করা হয়েছে চীনের বিরোধিতার জন্য।’
লি জিমিং বলেন, ‘এই চার সদস্যবিশিষ্ট ক্লাবে যোগ দিলে এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে না। কারণ এর ফলে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
গত ২৭ এপ্রিল চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উই ফেংগে এক দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সফরের সময় বাংলাদেশকে জানিয়েছিলেন, কোয়াডকে তারা চীনবিরোধী জোট মনে করে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভূমিকা নিয়েও তিনি বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ে কথা বলেন।
এর আগে মার্চে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর ও এপ্রিলে ভারতের সেনাপ্রধান ঢাকা সফর করেন। জয়শংকর ঢাকায় এসে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সংযুক্তি অর্থাৎ ওই সাগর সন্নিবেশিত নয়টি দেশে চীনের উপস্থিতি কমানোর প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।
ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন’ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড’ নামে একটা সংলাপ শুরু হয়েছিল। ২০১৭ সাল থেকে কোয়াডের এই চার সদস্য দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তবে এই জোট আলোচনায় আসে ২০২০ সালের জাপানের টোকিওতে দুদিনের বৈঠকের পর। ওই বৈঠকের পর চীন তার অবস্থান স্পষ্ট করে। সেই সময় টোকিওতে কোয়াডের এ বৈঠক চলার সময় একই সঙ্গে তিন থেকে চারটি নৌ এবং বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছিল পেইচিং। যদিও চীনকে আটকাতেই যে এই জোটবদ্ধ উদ্যোগ পরিষ্কার করে তা আগে কখনই বলা হয়নি। এসব বৈঠক নিয়ে এই চার দেশের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে জনসমক্ষে যেসব ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং যেসব নথিপত্র চালাচালি হয়েছে, তার কোথাও চীন শব্দটিই নেই।
অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, ইউরোপের সামরিক জোট নেটো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগ্রহ কমলেও মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তির জবাব দিতে এশিয়ায় নেটো ধাঁচের একটি জোট গঠনে দেশটি আগ্রহী হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন চীনকে কোণঠাসা করতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের নিয়ে একটি সামরিক জোট গড়তে আগ্রহী হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
