নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে প্রথম স্ত্রীর কুড়ালের আঘাতে স্বামী নিহত হয়েছেন বলে খবর পা্ওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুবিনাকে (২৮) আটক করা হয়েছে।
নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে জানায়, দুই মাস আগে তাদের তালাক হয়েছে। আর নিহতের ছোট ভাই বলছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেনি। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও মেয়েদের অনুরোধে তাদের দেখতে ঈদের দিন শ্বশুর বাড়িতে এসেছিলেন রুকু মিয়া।
নিহত মো. রুকু মিয়া নেত্রকোনার পুর্বধলা উপজেলায় ঘাগড়া ইউনিয়নের লেটিরকান্দা গ্রামে মো. সামছুদ্দিনের ছেলে। রুবিনা নিহতের প্রথম স্ত্রী এবং এ সংসারে তার ১০ ও ছয় বৎসর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। রুকু মিয়া গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই আসাদ মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, ঈদের আগে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও মেয়েদের জন্য টাকাও পাঠিয়েছিলেন। লেটিরকান্দায় ঈদ জামাত শেষে স্ত্রী ও মেয়েরা ফোনে তাকে কৈলাটি গ্রামে আসার কথা বলে। তিনি তাদের দেখতে প্রথম স্ত্রী’র শ্বশুরবাড়িতে দুপুরের দিকে রওনা দেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন খাবার শেষ এখন ঘুমায়ে পড়বো। প্রায় তিন ঘণ্টা পর অর্থাৎ রাত ২টার দিকে ভাইয়ের মৃত্যুর কথা ভাবির বাবা ও ভাই ফোনে জানান।
কলমাকান্দা থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক জানান, ঘটনাস্থলে এসে নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে জানতে পেরেছি নিহত রুকু মিয়া একাধিক বিয়ে করেছেন। ঈদের দিন সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রী'র বাবার বাড়িতে এসেছেন। দুই মাস আগে তাদের তালাক হয়েছে।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রথম স্ত্রী রুবিনাকে আটক ও কুড়ালটি জব্দ করা হয়েছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ফখরুজ্জামান জুয়েল জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।
