করোনা প্রাদুর্ভাব চলাকালীন এবারের ঈদে সহস্রাধিক নিম্নবিত্ত ও হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী এবং উপহার বিতরণ করে আলোচনায় এসেছেন পঞ্চগড়ের নতুন এক রাজনীতিক। করোনায় কাজ হারানো মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও অন্যান্য সহায়তা নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সমাজের বিত্তশালীরা ব্যক্তিগতভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তবে মুজিববর্ষে নাঈমুজ্জামান মুক্তা (৪৫) নামে ওই রাজনীতিকের এমন উদ্যোগকে মানবিক আর সৃজনশীল বলে মন্তব্য করেছেন উপকারভোগী ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, করোনা প্রাদুর্ভাবে বিভিন্ন সহায়তার মধ্যে কিছু আছে চোখে লাগার মতো। আবার নিভৃতে কাজ করে যাওয়া কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগও নজর কাড়ে। যারা এই আকালেও পথ দেখিয়েছেন ও আশা জাগিয়েছেন। তাদের মধ্যে নাঈমুজ্জামান মুক্তা অন্যতম।
নাঈমুজ্জামান মুক্তা আটোয়ারী উপজেলার সাতখামার এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সাবেক জনপ্রেক্ষিত কর্মকর্তা, মুজিববর্ষ উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য।
স্থানীয়রা জানান, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু সৃজনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন মুক্তা। এসবের মধ্যে রয়েছে নদীতে সাঁকো নির্মাণ, পানচাষিদের জন্য ঋণের ব্যাবস্থা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, কর্মসংস্থানের সুযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ।
এ বিষয়ে পাহাড়বাড়ি গ্রামের পানচাষি সেকান্দার আলী বলেন, ‘নাঈমুজ্জামান মুক্তা ভাই কৃষকের বন্ধু, গরিবের বন্ধু। উনি বিভিন্ন গ্রামে গরিবের বাড়িতে রাতে থাকেন। একদিন আমার বাড়িতেও ছিলেন। তখন আমরা পানচাষিদের সমস্যার কথা মুক্তা ভাইকে বললাম। কৃষি লোন ১১ মাসের হয় কিন্তু পান লাগানোর পর পান হতে প্রায় দুই বছর লাগে তাই আমাদের মেয়াদি লোন দরকার কিন্তু ব্যাংক দেয় না। উনি জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে আমাদের গ্রামে আনলেন এবং লোনের ব্যবস্থা করে দিলেন।’
এ বিষয়ে নাঈমুজ্জামান মুক্তা বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ একজন রাজনৈতিক কর্মীর অন্যতম লক্ষ্য। রাজনীতির কোনো ধরাবাঁধা সিলেবাস নেই। মানুষকে বোঝা, মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে বড় পাঠ। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে এই শিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
