সতর্ক ইসরায়েলের আরব মিত্ররা

আপডেট : ২০ মে ২০২১, ০২:২৫ এএম

ফিলিস্তিনিদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনের ওপর দখলদারিত্ব চালানোর লাইসেন্স দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই লাইসেন্সটি আরও পাকাপোক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দানের মধ্য দিয়ে। এক যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পর আরও ২৪টি দেশ ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠন বা পক্ষ ইসরায়েলকে যতই হামলা চালাতে বন্ধ করতে বলুক না কেন, তাতে কর্ণপাত করছে না তেলআবিব কর্র্তৃপক্ষ।

ট্রাম্পের ওই স্বীকৃতির পর আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তি চুক্তি হয়। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ইসরায়েলের ওই আরব বন্ধুরা এখন সতর্ক অবস্থানে আছে। তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য যে দেশগুলো গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সন্ধি পেতেছে, তারাও গাজায় হত্যা-হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা তারা কেউ এখনো বলেনি।

জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযান এবং গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা; এসব ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘নির্লজ্জ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ আখ্যায়িত করে তার নিন্দা জানিয়েছেন আরব দেশগুলোর কর্মকর্তারা। তবে সেখানেও সূক্ষ্মভাবে তারা ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম চুক্তির’ মধ্য দিয়ে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গত বছর ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। সাম্প্রতিক ফিলিস্তিন-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে আমিরাতের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানানো হলেও এবার অন্যপক্ষের জন্যও কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছে তারা। আরব আমিরাত কিছু ক্ষেত্রে গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাসেরও সমালোচনা করছে, আর তাতে যেন ইসরায়েলের কথারই প্রতিধ্বনি হয়েছে।

আমিরাতের ধর্মীয় নেতা ওয়াসিম ইউসুফ সম্প্রতি এক টুইটে লেখেন, ‘হামাস সাধারণ নাগরিকদের আবাসস্থলে রকেট হামলা করছে। যখন এর পাল্টা জবাব আসছে, তখন তারা চিৎকার করে বলছে ‘আরব আর মুসলমানরা কোথায়?’ নিরপরাধ মানুষ ও শিশুদের জন্য আপনারা গাজাকে একটি কবরস্থানে পরিণত করেছেন।’ পারস্য উপসাগরের আরব দেশগুলোর কিছু অংশের মধ্যে একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাসট্যাগ ঘোরাঘুরি করছে, যেটায় বলা হচ্ছে ‘#প্যালেস্টাইন ইজ নট মাই কজ’।

ব্রিটেনের থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের সহযোগী ফেলো নেইল কুইলিয়াম বলেন, আগামী দুই বছরের জন্য সৌদি আরবের শাসকরা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা ভাববেন; এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ আপাতত নেই।

আরব আমিরাত ও বাহরাইন যুক্তি দেখিয়েছে, তাদের ওই চুক্তি শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদেরই সুবিধা দেবে, কারণ ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা পশ্চিম তীরে সীমানা বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে যাবে। রিয়াদের তরুণ আবদুল রহমান আল-তোয়াজরির মতে, যেসব আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে, তাদের আবারও সেটা ভেবে দেখা উচিত, কারণ ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে তার বিশ্বাস হয় না। তার মতে ‘ঐক্যই শক্তি, তাই যদি আরব মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়, সংঘাত বন্ধ হবে। এটা অনেক আগেই হতে পারত যদি তারা ঐক্যবদ্ধ থাকত।’ তবে আরব আমিরাতসহ ইসরায়েলের নতুন বন্ধুরা সম্ভবত ওই সন্ধির পেছনে অনেক বেশি বিনিয়োগ করে ফেলেছে, যেখান থেকে হুট করে সরে আসা সম্ভব নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত