করোনাভাইরাস সংক্রমণে বরাবরই তরুণদের তুলনায় বয়স্কদের মৃত্যুহার বেশি। বয়স্কদের অধিকাংশেরই বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকায় তাদের মৃত্যুহার বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের মত। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ৮০ ভাগই পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের। এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির সংখ্যা ৫৭ ভাগের বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল বৃহস্পতিবারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৬ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যার মধ্যে ১৯ জন ষাটোর্ধ্ব বয়সের। এ নিয়ে করোনায় মৃত্যুবরণ করা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত দেশে ১২ হাজার ২৮৪ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের মধ্যে ৭ হাজার ১০ জন ষাটোর্ধ্ব বয়সের। শতকরা হিসাবে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির সংখ্যা মোট মৃত্যুর ৫৭ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ ছাড়া দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মৃতদের মধ্যে ৫১-৬০ বছরের ব্যক্তি রয়েছেন ২ হাজার ৯৬১ জন (শতকরা ২৪ দশমিক ১০ ভাগ) ও ৪১-৫০ বছর বয়সের ১ হাজার ৩৬৬ জন (১১ দশমিক ১২ শতাংশ)। বাকিদের মধ্যে ৩১-৪০ বছর বয়সের ৬০২ জন, ২১-৩০ বছর বয়সের ২১৯ জন, ১১-২০ বছর বয়সের ৮০ জন এবং ০-১০ বছর বয়সের শিশু মারা গেছে ৪৬ জন।
এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ১৪ জনই চট্টগ্রাম বিভাগের, যা অন্য যেকোনো বিভাগের চেয়ে বেশি। করোনায় সচরাচর ঢাকা বিভাগের বেশি লোকের মৃত্যু হলেও গতকাল ব্যতিক্রম হলো। অন্যদিকে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ৪৫৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা আগের দিনের চেয়ে কম। এদিন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি পরীক্ষা ও শনাক্ত হারও আগের দিনের চেয়ে কমেছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৩৮তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৮২টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৩১৪টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৯ হাজার ৪২৫ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯ হাজার ৪৩৭ জনের, যার মধ্যে ৫৩৫টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ১৯৪ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ২৮৪ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৭৮ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৫১০ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৬ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৬ ও নারী ১০ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৮৪ পুরুষ ও ৩ হাজার ৪০০ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৩২ ও নারী ২৭ দশমিক ৬৮ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ১৪ জন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। বাকিদের মধ্যে ঢাকায় ১২, রাজশাহী ও সিলেটে ৩ জন করে, খুলনায় ২ এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৯, ৫১-৬০ বছরের ৯, ৪১-৫০ বছরের ৫, ৩১-৪০ বছরের ১ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ২ জন। এদিন ২৫ জন সরকারি হাসপাতালে, ১০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১ জন বাসায় মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫২ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ৪৭২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৭৮৭ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৩ হাজার ৯৪৪ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯৯১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৮২টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ১৭১টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩১৬টিতে।
