মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ২৩ মে ২০২১, ০৬:৫৭ পিএম

যশোরে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই কেন্দ্রের পরিচালকসহ ১৪ জনকে আটক করেছে। মৃত মাহফুজুর রহমান (২০) চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মনিরুজ্জামানের ছেলে।

মনিরুজ্জামান বলেন, মাহফুজ মাদকসেবন করত। সে যাতে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সে কারণে ২৬ এপ্রিল তাকে যশোরের রেল রোডে অবস্থিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করি। শনিবার বিকেলে খবর পাই, তাকে ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন মারপিট করে মেরে ফেলেছে। পরে তার মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেখে তারা চলে গেছে। আমরা যশোরে এসে মাহফুজের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাই।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তন্ময় বিশ্বাস বলেন, শনিবার দুপুরে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে একটি মৃতদেহ জরুরি বিভাগে আনা হয়। নিহত ব্যক্তির কোনো নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ না করে বহনকারীরা কৌশলে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

যশোর কোতোয়ালী থানার এসআই শংকর বিশ্বাস বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট করার সময় মৃতের পিঠ, ঘাড় ও পশ্চাৎদেশে বেশকিছু আঘাতের চি‎হ্ন পাওয়া গেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর রাতে প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা যায়, মাহফুজকে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। মারপিটের কারণে সে মলত্যাগ করে ফেলে। তখন মাহফুজকে দিয়েই ওই মল পরিষ্কার করানো হয়।

তিনি বলেন, পুলিশের পৃথক কয়েকটি টিম সারারাত অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পূর্ববারান্দী পাড়ার বাসিন্দা মাসুম করিম ও অপর পরিচালক বারান্দীপাড়া বটতলা এলাকার আশরাফুল কবির, রেজাউল করিম, ওহেদুজ্জামান, ওহিদুল ইসলাম, আল শাহরিয়া, শাহিন, ইসমাইল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, এএসএম সাগর আলী, অহেদুজ্জামান সাগর ,নুর ইসলাম, হৃদয় ওরফে ফরহাদ ও আরিফুজ্জামানকে আটক করেছি।

রোববার দুপুরে এ ঘটনায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা মনিরুজ্জামন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত