ওষুধ কোম্পানি রোসে ইন্ডিয়া গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো করোনা চিকিৎসায় অ্যান্টিবডি ককটেল বাজারে এনেছে। এই অ্যান্টিবডি ককটেলের (ক্যাসিরিভিমাব ৬০০ মি.গ্রা. ও ইমদেভিমাব ৬০০ মি.গ্রা.) এক ডোজের দাম ধরা হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ হাজার টাকা। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এই অ্যান্টিবডি ককটেলের ব্যবহার সচরাচর হয় না এর দাম ও দুপ্রাপ্যতার কথা চিন্তা করে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের অক্টোবরে কভিডে আক্রান্ত হলে তাকে এই ককটেল দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিল। ওই ঘটনা চাউর হলে রাতারাতি ককটেলটির দাম বেড়ে যায়।
রোসে ইন্ডিয়ার এই ককটেলটি ভারতে সরবরাহ করার কাজ করবে কিপলা নামের একটি সংস্থা। এক যৌথ বিবৃতিতে কিপলা ও রোসে জানায়, ‘ভারতে এখন অ্যান্টিবডি ককটেলের প্রথম ব্যাচ পাওয়া যাচ্ছে। আগামী মধ্য জুন নাগাদ দ্বিতীয় ব্যাচের ককটেল পাওয়া যাবে। প্রথম ব্যাচের ককটেল থেকে দুই লক্ষাধিক রোগী উপকৃত হবে।’ কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করে বলছেন, এই অ্যান্টিবডি ককটেল একজন রোগীর ক্ষেত্রে অন্তত দুই ডোজ লাগবে। প্রয়োজনে আরও বেশিও লাগতে পারে। আর্থিকভাবে অবস্থা ভালো না হলে সাধারণের পক্ষে এই ককটেল ডোজ নেওয়া সম্ভব হবে না বলেও তারা মনে করেন।
প্রাথমিকভাবে এই অ্যান্টিবডি ককটেলের যে প্যাকেট করা হয়েছে, তাতে প্রতি প্যাকেটে দুজন রোগী চিকিৎসা নিতে পারবেন। আর এই এক প্যাকেটের দাম রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিবৃতি অনুসারে, ভারতের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল ও কভিড কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই ককটেল পাওয়া যাবে। করোনায় সংক্রমিত হয়ে অবস্থা যাদের বেশি খারাপ তাদের জন্য এই ককটেল ব্যবহার করার কথা রয়েছে। বলা হচ্ছে, এই ককটেল ব্যবহার করলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং চার দিনের মধ্যে সংক্রমণের যাবতীয় উপসর্গ কমবে।
অন্য দেশগুলোতে এই ককটেল ব্যবহার করা হয় করোনার মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে এমন রোগী কিংবা সংক্রমণের শিকার শিশুদের চিকিৎসার জন্য। এই অ্যান্টিবডি ককটেল ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হয়। প্যাকেটের একটি ভাইল খোলা হলে অন্য ভাইলটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে বলে জানিয়েছে রোসে ইন্ডিয়া।
