ডিবেঞ্চারের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ বেক্সিমকোর

আপডেট : ২৫ মে ২০২১, ১২:৫৯ এএম

২৬ বছর আগে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) সঙ্গে ডিবেঞ্চার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বেক্সিমকো গ্রুপসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তবে এসব ডিবেঞ্চারের মেয়াদ শেষ হলেও দীর্ঘ সময়ে পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনযোগ্য হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে এবার তিনটি ডিবেঞ্চারের (ঋণপত্র) মাধ্যমে নেওয়া ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ। গতকাল ডিবেঞ্চারগুলোর ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) দায়-দেনা নিষ্পত্তির ঘোষণা দিয়েছে।

বর্তমানে ডিএসইতে বেক্সিমকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির ৮টি ডিবেঞ্চার লেনদেনযোগ্য হিসেবে রয়েছে। এসব ডিবেঞ্চারধারীদের পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় তা তালিকাচ্যুত করেনি ডিএসই। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই ডিবেঞ্চারের কোনো লেনদেন হয় না। গত বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিতে নতুন কমিশন আসার পর ডিবেঞ্চারধারীদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বেক্সিমকোর আগে দোয়েল গ্রুপের তিন কোম্পানির ইস্যু করা ডিবেঞ্চারগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয় কমিশন। এসব ডিবেঞ্চার ৯০ এর দশকের বিভিন্ন সময়ে ইস্যু করা হয়েছিল। ডিবেঞ্চারগুলোর বার্ষিক সুদহার ছিল ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে সুকুক বন্ড ছেড়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই কোম্পানিটি সুকুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের আবেদন এসইসিতে জমা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো গ্রুপের আগের ইস্যু করা ডিবেঞ্চারের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান আইসিবি জানিয়েছে, বেক্সিমকো টেক্সটাইলস লিমিটেড, বেক্সিমকো ডেনিমস ও বেক্সিমকো সিনথেটিকসের ইস্যু করা ডিবেঞ্চারে আসল ও সুদবাবদ কোনো পাওনা দাবি থাকলে ডিবেঞ্চার হোল্ডারদের আগামী ৫ জুনের মধ্যে আইসিবিতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব ডিবেঞ্চারের সবচেয়ে বড় পাওনাদার আইসিবি নিজেই।

সম্প্রতি বেক্সিমকো গ্রুপ ৩ হাজার কোটি টাকার ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক সুকুক বন্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। বেক্সিমকো পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের দুটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তিস্তা সোলার লিমিটেড ও করতোয়া সোলার লিমিটেডের নির্মাণ ব্যয়ে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে এই বন্ড চালু করছে বেক্সিমকো। এছাড়াও এই বন্ড থেকে অর্জিত অর্থ বেক্সিমকোর টেক্সটাইল বিভাগ সম্প্রসারণ ও যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যয় করা হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই সুকুক বন্ডের অভিহিত মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৫০টি বন্ড নিয়ে একটি লট ৫০০০ টাকায় ক্রয় করা যাবে। এই বন্ডে ৯ শতাংশ ভিত্তিমূল্যের সঙ্গে মার্জিন যোগ করে মুনাফা প্রদান করা হবে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে আইপিও ও ডিবেঞ্চার ইস্যু করে বেক্সিমকো সিনথেটিকস লিমিটেড। সে সময়ে আইপিওতে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। আর বছরে ১৪ শতাংশ সুদে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ডিবেঞ্চার ইস্যু করে কোম্পানিটি। এরমধ্যে আইসিবির কাছে ৫ কোটি টাকার ডিবেঞ্চার ইস্যু করা হয়। অবশিষ্ট ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ডিবেঞ্চারের মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৫ কোটি টাকা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে সাড়ে ৭ কোটি টাকার ডিবেঞ্চার বরাদ্দ রাখা হয়।

১৯৯৫ সালের আগস্টে আইপিও ও ডিবেঞ্চার ইস্যু করে বেক্সিমকো ডেনিমস লিমিটেড। সে সময়ে আইপিওতে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। একই সময়ে বছরে ১৪ শতাংশ সুদে ৩০ কোটি টাকার ডিবেঞ্চার ইস্যু করে কোম্পানিটি। এরমধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বেক্সিমকো গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২ কোটি টাকার ডিবেঞ্চার বরাদ্দ রাখা হয়। ১৯৯৪ ও ৯৫ সালে বেক্সিমকো নিটিং এবং বেক্সিমকো টেক্সটাইলসও ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে।

২০০৫ সালের মধ্যে বেক্সিমকোর সবগুলো ডিবেঞ্চারের মেয়াদ শেষ হলেও ডিবেঞ্চারধারীদের অর্থ পরিশোধ হয়নি। এখন ডিবেঞ্চারধারীদের পাওনা পরিশোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে গ্রুপটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত