বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ মামলার আসামি বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকের (২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল মারা গেছেন) ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম বাতিল প্রশ্নে দেওয়া রুল খারিজ করে এ রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত ৬৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবাসাইটে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ নিষ্পত্তি করতে হবে। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম রয়েছে এ মামলার আসামির তালিকায়। হাইকোর্টের আদেশে এত দিন মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল এবং পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ায় এর বিচার কার্যক্রম চলতে বাধা নেই বলে জানান এ মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিষয়টি অবগত হয়েছি। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এ মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমিনুল হক জীবিত অবস্থায় এ মামলার রায় হয়েছিল। তিনি মারা যাওয়ায় ব্যক্তি হিসেবে তার নাম বাদ যাবে। কিন্তু অপরাধের অভিযোগ যেটি, সেটি কখনো বাদ যাবে না। অভিযোগের বিচার করবে আদালত।’
রাজধানীর বকশিবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির অভিযোগের এ মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে এ মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে ফৌজদারি বিবিধ আপিল করেন আমিনুল হক। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রুল জারি করে আমিনুল হকের মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। হাইকের্টের এ রায়ের ফলে মামলার কার্যক্রম এখন চলতে বাধা নেই বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবী।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া, আমিনুল হকসহ বেশ কয়েকজনের নামে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি নিয়ে চুক্তির মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
