ঘরে ব্যবহার করা হয় একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান ও লাইট। নেই কোনো এসি, ফ্রিজ কিংবা টেলিভিশন। তারপরও গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮৪৩০ টাকা!
এমনই ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের খবর পাওয়া গেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উজেলায়। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের খেয়ালীপনা আর দায়িত্ব অবহেলার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ ভূক্তোভোগী গ্রাহকের। তবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকে দায়ী করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের বেপারী বাড়ির গৃহবধূ রুমা আক্তারের বৈদ্যুতিক মিটারে ঘটেছে এই ভূতুড়ে কানণ্ড। তিনি চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০২ ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুতের মিটার ব্যবহার করেন। রুমা আক্তার গত পাঁচ বছর এই বৈদ্যুতিক মিটারটি ব্যবহার করে আসছেন। তিনি একটি ফ্যান ও একটি লাইট ও মোবাইল চার্জার ব্যবহার করতেন। এতে প্রতি মাসে তার বিল আসত এক শ থেকে দেড় টাকার মত। যা তিনি নিয়মিতভাবে পরিশোধও করে আসছেন।
কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসের বিদ্যুৎ বিল পেয়ে চোখ তার চড়কগাছ। এ মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৭৮ হাজার ৪৩০ টাকা। বিদ্যুতের এ বিল দেখে হতাশ রুমা বেগম বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও পাননি কোনো সমাধান। উপরন্তু বিলের পুরো টাকাই পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে।
এ ব্যাপারে রুমা বেগম বলেন, ‘আমি অনেক কষ্টে বিদ্যুতের লাইন আনছি ঘরে। আমি আর আমার দিনমজুর স্বামী গত পাঁচ বছর ধইরা এই মিটার ব্যবহার করতাছি। আমরা একটা ফ্যান ও লাইট আর মোবাইলের চার্জার ব্যবহার করতাম। প্রতিমাসে আমাগো কারেন্ট বিল আইতো এক শ টেহা তনে দেড় শ টেহা পইযন্ত। কিন্তু মার্চ মাসে এতো টেহা বিল আইছে ক্যামনে আমি জানি না। বিষয়ডা পল্লী বিদ্যুতের স্যারেগোরে জানাইলে সমাদান তো করেই নাই, উল্ডা হেতারা আমার লগে খারাপ ব্যবহার করেন। হেতারা আমগোরে বিল দিতাম কই অফিসেত্তে নামাই দিছে। একটা ফ্যান আর টাইট চালায়া এতো টেহা বিল কিমু কইত্তে? আমি সরকারের কাছে বিচার চাই’।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে কর্মরত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ নূরুল হোসাইন বলেন, এই বিল আসার পরে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করে দেখেছি। মূলত বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটের কারণে এই বিদ্যুতের ইউনিট খরচ হয়েছে। যা তার মিটারের আওতায়। তাই মার্চ মাসে তার মিটারে এত টাকা বিল এসেছে। এতো টাকা এক সঙ্গে পরিশোধ সম্ভব নয় বলে তাকে আমরা সহনীয় পর্যায়ে কিস্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছি।
