রংপুরে রহমত হত্যা

সাড়ে ৫ বছর পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ০২:১৫ এএম

রংপুরের কাউনিয়ায় চাঞ্চল্যকর খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি জেএমবি’র (ইসাবা গ্রুপের) সদস্য আব্দুর রহমান ওরফে চান্দু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর পর গত সোমবার রাতে সাভারের গেন্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৩ সালে খাদেম রহমত আলীকে জেএমবির সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।   

গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর বারিধারায় পুলিশের অ্যান্টি -টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, গ্রেপ্তার জঙ্গি আবদুর রহমানের বাড়ি রংপুরের পীরগাছায়। তার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়। ‘কিলিং মিশনে’ অংশ নেওয়ার পর রিকশাচালকসহ বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধরেন তিনি। রংপুরের ঠিকানা পাল্টে ব্যবহার করতেন শ^শুরবাড়ির ঠিকানা। মূলত ওই শ^শুরবাড়ির সূত্র ধরেই তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহমান জানিয়েছেন, একটি মসজিদে মোয়াজ্জিন থাকাকালীন জেএমবিতে যোগদান করেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ১৮-১৯ বছর। তিনি নিজে খাদেম রহমত আলীকে কুপিয়েছেন। এরপরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। আবদুর রহমান আরও জানিয়েছেন, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির (ইসাবা গ্রুপের) সদস্য। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির কয়েকজন সদস্যের নাম জানা গেছে যারা বর্তমানে গোপনে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। খাদেম রহমত আলী হত্যায় কয়েকজন স্থানীয় অর্থায়ন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন আবদুর রহমান।

মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, খাদেম রহমত আলী শরীয়তপুরের ‘সুরেশ্বরী’ তরিকা পালন করতেন। বাড়ির পাশে তার বাবা-মার কবরকে মাজার ঘোষণা করেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে মাজার ও মসজিদ সংলগ্ন একটি দরবার শরিফ গড়ে প্রতি বৃহস্পতিবার সুরেশ্বরী তরিকা মোতাবেক অনুসারীদের নিয়ে জিকির করতেন। রহমত আলীর এসব কর্মকান্ড জেএমবি সদস্যদের নজরে আসে। তাদের দাবি অনুযায়ী রহমত আলী একজন ভন্ড পীর, শিরককারী এবং দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে তাকে হত্যা করা আবশ্যক। তাই জেএমবি সদস্যরা খাদেম রহমত আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। আব্দুর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান এটিইউয়ের এ কর্মকর্তা।

২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খাদেম রহমত আলীকে জেএমবির সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন অর রশীদ রংপুরে জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুনসহ ১৪ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরের বছর ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার ওই মামলায় ৬ জনকে খালাস ও ৭ জনের মৃত্যুদন্ডের রায় দেন। মৃত্যুদন্ড-প্রাপ্তদের মধ্যে আবদুর রহমান ছাড়া বাকি সবাই বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলে রয়েছেন। তারা হলেন মো. মাসুদ রানা ওরফে মন্ত্রী, বিজয় ওরফে মো. মোহাদ্দেস আলী ওরফে দর্জি, মো. লিটন মিয়া ওরফে রফিক, মো. ইসাহাক আলী, মো. সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শফিক, মো. সারোয়ার হোসাইন ওরফে মিজান ওরফে ড্রাইভার। এদের মধ্যে মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলারও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত