খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে মিলন বিকাশ ত্রিপুরা (২৬) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ির অরুণ পাড়া এলাকার মনসারাই ত্রিপুরার ছেলে। তিনি সাজেকের পর্যটকবাহী কাউন্টারের লাইম্যান’র দায়িত্ব পালন করতেন।
মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। জেলা কারাগারের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তার বাবা মনসারাই ত্রিপুরা ও।
শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দুপুর আড়াইটার দিকে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে মরদেহ শনাক্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে কর্মরত সহকারী প্রধান কারারক্ষী সবি রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, ঘটনার সময়ে আমি ছিলাম না। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।
খাগড়াছড়ি সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় জানান, মাথায় আঘাত ও গলায় গামছা পেঁচানোর দাগও দেখা যায়।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগার থেকে এক কয়েদিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই ওই কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মরদেহ তদন্ত করার সময় সহকারী কমিশনার (ম্যাজিস্ট্রেট) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, গলায় কালো রঙের দাগ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এর বাইরে তিনি আর কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।
খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, শুক্রবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে কারাভ্যন্তরের আইসোলেশন ওয়ার্ডে টয়লেটেরর ভেনটিলেটরের রডের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মিলন বিকাশ। কর্তব্যরত প্রধান কারারক্ষী ও অন্য কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করেন। কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জনের পরামর্শে তাৎক্ষণিক আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে তাকে নেয় হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, কারাগারে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চলতি বছরের ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে খাগড়াছড়ির গুইমারায় এক ছাত্রী গোসল করার সময় গোসলখানার ওপরে বসে গোপনে ভিডিও ধারণের কারণে পর্নোগ্রাফির মামলায় গ্রেপ্তার হন মিলন বিকাশ। ১৭ মে আদালতের নির্দেশে তাকে খাগড়াছড়ি কারাগারে পাঠানো হয়।
